২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারত ও আইসিসি যে নতুন খেলায় মেতেছে, তাকে স্রেফ জালিয়াতি বললেও কম বলা হয়। নিপাহ ভাইরাসের মতো ভয়াবহ মরণব্যাধি যখন পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে তখন বিসিসিআই ব্যস্ত ড্যামেজ কন্ট্রোলে—রোগ সারাতে নয়, বরং তথ্য লুকাতে!
গত ২৭ জানুয়ারি ভারতীয় গণমাধ্যমে যখন খবর এলো—নিপাহ আক্রান্ত ৫ জন এবং শতাধিক মানুষ কোয়ারেন্টাইনে, তখন থেকেই বিসিসিআই-এর অন্দরে কম্পন শুরু হয়। কারণ? নিপাহ মানেই বিশ্বকাপের শতকোটি টাকার বাজার ধসে পড়া।
আশ্চর্যজনকভাবে, ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই সেই সংখ্যা ৫ থেকে কমিয়ে ২-এ নামিয়ে আনা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, এই জাদুকরী নিরাময় কি চিকিৎসার ফল, নাকি বিসিসিআই-এর প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপের ফসল? বাইরের দুনিয়াকে ‘সব ঠিক আছে’ দেখানোর এই পরিকল্পিত মিথ্যাচার কি স্রেফ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া নয়?
আইসিসির আয়ের মেরুদণ্ড ভারতের বাজার। টেলিভিশন স্বত্ব, ডিজিটাল স্ট্রিমিং আর স্পনসরশিপের যে পাহাড়সম টাকা, তার মোহে পড়ে খোদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলও এখন অন্ধের ভূমিকা পালন করছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘স্ট্যান্ডবাই’ রাখলেও আইসিসি প্রকাশ্যে টুর্নামেন্ট সরানোর কথা বলছে না। কোটি কোটি মানুষের জীবনের চেয়ে কি ব্রডকাস্টারদের খুশি রাখা বেশি জরুরি? প্রশ্ন উঠেছে, আইসিসি কি এখন বিসিসিআই-এর একটি শাখা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে?
নিপাহ ভাইরাসের মৃত্যুহার যেখানে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, সেখানে হাজার হাজার দর্শককে গ্যালারিতে গাদাগাদি করে বসিয়ে রাখা কি যুক্তিসম্মত?
এ বিষয়ে পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বিসিসিআই-এর কর্তারা যেন কানে তুলো দিয়েছেন। তারা স্রেফ চাচ্ছেন কোনোভাবে টুর্নামেন্টটা শেষ করতে, যাতে পকেটে ঢোকে কয়েক হাজার কোটি টাকা।
এদিকে, দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর মাঠগুলো প্রস্তুত। ২০২১ সালে সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে তারা প্রমাণ করেছে যে মরুদেশে ক্রিকেট নিরাপদ। তবুও আইসিসি ভারতকে আঁকড়ে ধরে আছে।
বিসিসিআই-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দাবি—‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক’। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ডাক্তার-নার্সদের অবস্থা আর কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষের ভয় বলছে—বিসিসিআই বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দিচ্ছে।