আইপিএল নিলামের হাতুড়ির শব্দ থেমে গেছে ঠিকই, কিন্তু দল গঠনের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। বিসিসিআই সম্প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে ১,৩০৭ জন খেলোয়াড়ের একটি দীর্ঘ তালিকা পাঠিয়েছে, যা ‘রেজিস্টার্ড অ্যাভেইলেবল প্লেয়ার পুল’ বা র্যাপ নামে পরিচিত।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বা চলাকালীন কোনো খেলোয়াড় ছিটকে গেলে, এই তালিকা থেকেই বিকল্প বেছে নিতে হবে দলগুলোকে।
কী এই র্যাপ?
সহজ কথায়, যে সমস্ত খেলোয়াড় নিলামের জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নাম প্রত্যাহার করেননি, অথচ নিলামে অবিক্রীত রয়ে গেছেন, তাদের নিয়েই এই পুল গঠিত হয়।
কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি তাদের স্কোয়াডে কারো বিকল্প নিতে চায়, তবে এই তালিকার বাইরে থেকে কাউকে নেওয়া সম্ভব নয়।
এবারের র্যাপ তালিকায় বেশ কিছু চমকপ্রদ নাম রয়েছে। গত ১৬ ডিসেম্বর আবুধাবির নিলামে যারা দল পাননি, তাদের মধ্যে আছেন:
বিদেশি তারকা: স্টিভ স্মিথ, জনি বেয়ারস্টো, রিস টপলি এবং জেমি স্মিথের মতো ক্রিকেটাররা।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল, যিনি সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ হয়েছিলেন, তিনিও আছেন এই তালিকায়।
এ ছাড়া ভারতীয় ক্যাপড প্লেয়ারদের মধ্যে মায়াঙ্ক আগরওয়াল, উমেশ যাদব, দীপক হুডা, নবদীপ সাইনি, চেতন সাকারিয়া এবং সন্দীপ ওয়ারিয়ারের নাম রয়েছে। এদের প্রত্যেকেরই ভিত্তিমূল্য ৭৫ লক্ষ টাকা।
র্যাপ থেকে খেলোয়াড় নেওয়ার ক্ষেত্রে বিসিসিআই কিছু কড়া নিয়ম বেঁধে দিয়েছে
১. ন্যূনতম মূল্য: কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি চাইলেই এই তালিকার কোনো খেলোয়াড়কে তার ভিত্তিমূল্যের চেয়ে কম দামে দলে নিতে পারবে না।
২. নেট বোলারসংক্রান্ত নিয়ম: অনেক সময় দলগুলো এই তালিকার খেলোয়াড়দের ‘নেট বোলার’ হিসেবে নিজেদের ক্যাম্পে রাখে।
তবে বিসিসিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো খেলোয়াড় কোনো দলের নেট বোলার হওয়া মানেই সেই দলের তার ওপর কোনো বিশেষ অধিকার নেই। যদি অন্য কোনো দল তাকে মূল স্কোয়াডে ‘রিপ্লেসমেন্ট’ হিসেবে নিতে চায়, তবে বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে ছাড়তে বাধ্য থাকবে।
আইপিএলের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে চোট পাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। গত বছরগুলোতে দেখা গেছে, নিলামে দল না পেয়েও পরে বিকল্প হিসেবে এসে অনেকে টুর্নামেন্টের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন।