খুলনার সদর হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ৯টি উপজেলার কোনো সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই মিলছে না জলাতঙ্কের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা।
সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতেও মিলছে না এই জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন, যা পুরো জেলায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘টিকা নেই’ বলে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। নিরুপায় রোগীরা ছুটছেন শহরের বড় বড় ফার্মেসিগুলোতে। সেখানেও কোনো ভ্যাকসিন মিলছে না।
রূপসা উপজেলা থেকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন নজরুল ইসলাম জানান, ‘আমার ছোট ভাইকে পাগলা কুকুর কামড় দিয়েছে। হাসপাতালে আসলাম, তারা বলছে টিকা নেই। শহরের সব দোকান খুঁজলাম, কোথাও পাচ্ছি না। হাসপাতাল ও ফার্মেসির লোকজন বলছে, এই ভ্যাকসিন অনেকদিন ধরে সরবরাহে ঘাটতি আছে। এখন ভাইকে নিয়ে কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।’
একই চিত্র জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, ডুমুরিয়া, ফুলতলা, কয়রা, পাইকগাছা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতেও। অনেক রোগী বাধ্য হয়ে চড়া দামে পার্শ্ববর্তী মার্কেট বা জেলা থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যা অধিকাংশ সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে।
ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনেরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন ঝুঁকিপূর্ণ এই জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন সব সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।