ময়মনসিংহে এলপিজি গ্যাস মজুদ রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ১,৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২,৬০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরের বাইপাস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি, মূল্য তালিকা না থাকা এবং ভাউচার দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ওমেরা ও পেট্রোমেক্স ডিলারকে ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশিক খান শুষান বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে যে ১,৩০০ টাকার এলপিজি গ্যাস ২,৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ডিলাররা নির্ধারিত দামের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মধ্যে ফেলছেন। অভিযানে এসেও আমরা যথেষ্ট পরিমাণ মজুদ পেয়েছি। কিন্তু বাজারে নেই বললেই চলে। সাধারণ মানুষকে হয়রানির দায় ডিলারদেরকেই নিতে হবে।
আরেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নূর লিয়া বলেন, বারবার ডিলারদের সতর্ক করা হলেও, তাদের মজুদ থাকা সত্ত্বেও তারা বাজারে গ্যাস সরবরাহ করছে না। অভিযানে এসে তার প্রমাণও আমরা পেয়েছি। কোম্পানি থেকে তারা মূল্য নির্ধারণ করে গ্যাস আনলেও আমাদের ভাউচার দেখাতে পারছে না এবং মূল্য তালিকাও টানানো নেই। তাই বিধি অনুসারে এই ডিলারকে ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
ওমেরা এবং পেট্রোম্যাক্সের ডিলার সুশান্ত কুমার বলেন, “ওমেরা ১২ কেজি ১,৩০৬ টাকায় কিনে ১,৩২৬ টাকায় বিক্রি করছি, ২৫ কেজি ২,৫৪৭ টাকায় কিনে ২,৫৭৮ টাকায় বিক্রি করছি, ৩৫ কেজি ৩,৫৫৮ টাকায় কিনে ৩,৫৯৩ টাকায় বিক্রি করছি এবং ৪৫ কেজি এলপিজি ৪,৫৭৫ টাকায় কিনে ৪,৬৩১ টাকায় বিক্রি করছি। আমাদের অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। বেশি দামে বিক্রি করলে খুচরা ব্যবসায়ীরা করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “কৃত্রিম সংকট আমরা তৈরি করি নি। আগে প্রতিদিন এলপিজি আসলেও এখন দুই-তিন দিন পরপর আসছে, তাই খুচরা ব্যবসায়ীদের আমরা এলপিজি দিতে পারছি না।”