নিরবের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে আজিমপুর চৌরাস্তা থেকে তাকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নিয়মিত হুমকি ও হয়রানি করত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কাছে সরবরাহ করে গ্রেপ্তারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।
ঘটনার দিন, আজিমপুর চৌরাস্তায় রিকশায় থাকা অবস্থায় ধারালো অস্ত্র, স্টিল পাইপ, রড ও হকিস্টিক দিয়ে প্রায় ২০ মিনিট ধরে পিটিয়ে তাকে অচেতন করে দেওয়া হয়। এরপর সাদা পোশাকধারী অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে চোখ বেঁধে একটি গোপন সেলে নিয়ে যায়, যেখানে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। নিরব অভিযোগ করেছেন, মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাকে কয়েকদিন অন্ধকার সেলে রেখে খাদ্য-পানীয় থেকে বঞ্চিত করা হয়। নির্যাতনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তার নখ উপড়ে ফেলা হয়, পায়ে আঘাত করা হয় এবং যৌনাঙ্গে স্টিল পাইপ দিয়ে আঘাত করে স্থায়ীভাবে অক্ষম করার চেষ্টা করা হয় হয়ে বলে অভিযোগ করেছে।
নির্যাতন শেষে তাকে একটি মিথ্যা মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় এবং ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়, যার ফলে তার সাথে পরিবারের সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিরব জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রকাশিত সমন্বয়ক তালিকার মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম গুমের শিকার হন। পরিবারের নিরাপত্তা ইস্যু ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হুমকি ধামকির কারণে এতদিন এই খবর অপ্রকাশিত ছিল।
বর্তমানে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ট্রমা থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি এবং পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত লীগ সন্ত্রাসীরা এখনও তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। নিরব তার ও সকল ‘জুলাইযোদ্ধা’দের রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ইব্রাহীম নিরব তিনি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের সন্তান।