গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনামূলক তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর এর দুই নির্মাতার ইসরাইলি নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী মিকি জোহার।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। একই পোস্টে জোহার তথ্যচিত্রটিকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দেন এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে এর পুরস্কার পাওয়ার ঘটনাকে ‘চমকে দেওয়ার মতো’ বলে মন্তব্য করেন। খবর আল জাজিরার।
মিকি জোহার অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘ইহুদিবিদ্বেষীদের’ কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মাতারা নিজেদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। তাদের এই কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
ইসরাইলের সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেবেন।
প্রায় ৮০ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিক বিবরণে বলা হয়েছে, ছবিটিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত ব্যাপক হত্যাকাণ্ডে এআই-নির্ভর ব্যবস্থার ব্যবহারের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হয়েছে।
ভেনিসে তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ারের পর দর্শকেরা প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে নির্মাতাদের অভিনন্দন জানান।
‘নাজা’তে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্যের সাক্ষাৎকারও রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষাৎকারদাতাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ল্যাভেন্ডার’ নামের একটি এআই-ভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে গাজায় ফিলিস্তিনিদের যোগাযোগ নজরদারির পাশাপাশি নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।
নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম জানিয়েছেন, তার প্রত্যাশা—তথ্যচিত্রটি পশ্চিমা দেশগুলোকে ইসরাইলের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আরও সক্রিয় করবে।