ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর বেলাবো অংশে বারেচা-খামারচর সেতুর বেহাল দশায় যাত্রী ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সেতুর ওপরে পিচ ও কংক্রিটের বিভিন্ন অংশ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় দিন দিন এর অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ছে। গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। সেতুর বড় বড় গর্তে গাড়ির চাকা পড়লে চালকদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে ভারী যানবাহন গর্তে পড়ে বিকল হয়ে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
চালকদের ভাষ্য, একটি গাড়ি সেতুর ওপর আটকে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে রোগী, নারী, শিশু ও দূরপাল্লার যাত্রীসহ শত শত মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়। রাতে পর্যাপ্ত সতর্কতা ছাড়া চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
ট্রাক চালক চন্দন মিয়া বলেন, “ভারী পণ্য নিয়ে চলাচলের সময় সেতুর গর্তে চাকা পড়ে গেলে গাড়ি সামলানো খুব কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় গাড়ির এক্সেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সড়কের ওপরই গাড়ি থেমে যায়। তখন পেছনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। আগে যে পথ এক ঘণ্টায় পার হওয়া যেত, এখন যানজটের কারণে চার-পাঁচ ঘণ্টাও লেগে যাচ্ছে।”
বাসচালক সোহাগ মিয়া বলেন, বারেচা এলাকায় গাড়ি চালানো এখন চালকদের জন্য আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বারেচা-খামারচর সেতুর বড় বড় গর্তে গাড়ির চাকা পড়লে স্প্রিংয়ের পাতা ভেঙে যাওয়া কিংবা টায়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য সেতু পার হওয়ার সময় চালকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
শুধু চালক ও যাত্রীরাই নন, এই যানজটের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরাও। কৃষক জুয়েল মিয়া জানান, সকালে খামারচর মোড় এলাকায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। এতে কৃষকেরা সময়মতো সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে পৌঁছাতে পারে না। ফলে অনেক সময় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, দুই দিন আগেও সেতুর ওপর একটি ট্রাক গর্তে আটকে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সারা রাত চেষ্টা করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। পর দিন সেতুর কিছু খানাখন্দ সমান করার কাজ করা হয় এবং হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের জন্য এখানে বিকল্প সেতু নির্মাণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাই রাব্বি বলেন, বৃষ্টির কারণে সেতুটিতে বিটুমিনের কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সংস্কার শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, তিনি নিজে সরেজমিনে সেতুটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে