বিদেশের মাটিতে দেশের একটি সরকারি কার্যালয়। সেখানে প্রবেশ করলেই প্রবাসীদের মনে অন্যরকম এক অনুভূতি তৈরি হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা, জটিল প্রক্রিয়া, কাগজপত্রের ত্রুটি কিংবা যোগাযোগের ঘাটতি অনেক সময় সেই অনুভূতিকে ম্লান করে দেয়। অবশ্য সেবার এই প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে কানাডার টরন্টোয় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেবা গ্রহণ সহজ করা, ফোনে দ্রুত সাড়া দেওয়া, দূরবর্তী প্রদেশের প্রবাসীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট-জটিলতা কমানোসহ জনবান্ধব সেবার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে এই কনস্যুলেট। প্রবাসীদের সেবা দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্টারিওর বাইরে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য টরন্টো কনস্যুলেট থেকে সেবা নেওয়া দীর্ঘদিন ধরেই ছিল সময় ও অর্থসাপেক্ষ। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, আলবার্টা, সাসকাচুয়ান কিংবা ম্যানিটোবার মতো দূরবর্তী প্রদেশ থেকে বিমানযোগে টরন্টো এসে নির্ধারিত সময়ের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সঙ্গে ফ্লাইটের সময় মেলানো অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে।
কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি বা ঘাটতি থাকলে নির্ধারিত দিনে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হতো। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ দূরবর্তী প্রদেশের প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ওয়াক-ইন সুবিধা চালু করেছে। ফলে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ নিয়ে কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হয়েছে। ছুটির দিন ছাড়া কর্মদিবসে সরাসরি কনস্যুলেটে এসে প্রয়োজনীয় সেবা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রবাসীদের সময়, অর্থ ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমেছে।
সেবা প্রদানে প্রযুক্তির ব্যবহারও টরন্টো কনস্যুলেটের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপকে শুধু তথ্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবে না দেখে প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো ‘লাইভ কনসালটেশন’ বা ভার্চুয়াল পরামর্শসেবা। আবেদন-সংক্রান্ত জটিলতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে প্রবাসীরা ফেসবুক ইনবক্সে যোগাযোগ করতে পারছেন। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি কনসাল জেনারেলও সরাসরি যুক্ত হয়ে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছেন।
কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের মাধ্যমেও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। ফলে অফিসে না গিয়েও অনেক সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাচ্ছেন প্রবাসীরা।
কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে চালু করা হয়েছে ভিডিও লাইব্রেরি। ই-পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং নো ভিসা রিকোয়ার্ডসহ (এনভিআর) গুরুত্বপূর্ণ সেবার আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে।
ফলে আবেদন করার আগে ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেখে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। কাগজপত্রের ভুল ও অসম্পূর্ণ আবেদন কমানোর পাশাপাশি এতে কনস্যুলেটে অপ্রয়োজনীয় ভিড়ও কমেছে।
কনস্যুলেটে যোগাযোগ নিয়ে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে প্রাপ্ত শতভাগ ফোনকলের উত্তর দিয়েছে কনস্যুলেট। কোনো কারণে কল মিস হলে পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলব্যাকের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।