বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন

কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ একাধিক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে প্রশ্নোত্তর টেবিলে জবাবটি উপস্থাপন করা হয়।

প্রশ্নে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৩ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তুলনামূলকভাবে নেপালের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে কর আহরণ বৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান তিনি।

লিখিত জবাবে বলা হয়, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতোমধ্যে মিডিয়াম অ্যান্ড লং-টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি (এমএলটিআরএস) গ্রহণ করেছে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বিভাগীয় কার্যক্রমের এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটালাইজেশনও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে অনলাইন উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় ও কর অব্যাহতি কমানো, কর আইন সহজীকরণ, তথ্যভিত্তিক কর ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন খাতভিত্তিক ঝুঁকিনির্ভর নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা। পাশাপাশি করদাতাদের তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লিখিত জবাবে আরও বলা হয়, করদাতাদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক অনলাইন সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘ট্যাক্স এক্সপেনডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৬’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর অব্যাহতি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, মামলা ও বকেয়া আদায়, নিলাম কার্যক্রম, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন, অনিষ্পন্ন চালান নিষ্পত্তি এবং ডিফার্ড পেমেন্ট খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণে জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকার পর্যায়ক্রমে ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ এবং কাস্টমস স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৪-২০২৮ বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।

লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, গৃহীত পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে এ হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ জোরদারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102