টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দামপাড়া গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে আবারও দেখা গেল সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এক গ্রাম, এক সমাজ—সম্প্রীতির এ মেলবন্ধনে আবদ্ধ গ্রাম দামপাড়া স্লোগানকে ধারণ করে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী এবারও গ্রামের সব পরিবারের মাঝে সমানভাবে কোরবানির মাংস বণ্টন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ঈদের দিন কোরবানির মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের পরিচালিত কার্যক্রমে এমন দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়েছে।
ঈদের নামাজ শেষে দামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শুরু হয় কোরবানি ও মাংস বণ্টনের আয়োজন। গ্রামবাসীদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের ৫৮৫টি পরিবারের মধ্যে ৪৭টি কোরবানির গরু ও ৮টি খাসির মাংস সুষ্ঠুভাবে সমান ভাগে বণ্টন করা হয়।
গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী তরুণ ও যুবকেরা প্রতিটি পরিবারের জন্য সমানভাবে মাংস ভাগ করার দায়িত্ব পালন করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চললেও পুরো সময়জুড়ে গ্রামবাসীর মাঝে ছিল ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের চিত্র।
স্থানীয়রা জানান, আধুনিক সমাজে যখন পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে, তখন দামপাড়া গ্রামের মানুষ একতাবদ্ধ থেকে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
গ্রামবাসীদের ভাষ্য, বহু বছর আগে গ্রামের মরহুম খন্দকার মোজাম্মেল হক, মরহুম জব্বার মেম্বার, মরহুম জোয়াদ আলী, মরহুম ছোবহান সরকার, মরহুম আনোয়ার মাস্টার, মুক্তার হোসেন ও আবদুল হাকিমের উদ্যোগে একসঙ্গে কোরবানি ও মাংস বণ্টনের এই প্রথা চালু হয়। বর্তমানে গ্রামের তরুণ প্রজন্ম মুরুব্বিদের সেই উদ্যোগকে সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এ উদ্যোগে স্থানীয় ছাত্র, তরুণ ও যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রশংসিত হয়েছে। তারা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাংস বিতরণ, অসহায় পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নেন। সচেতন মহলের মতে, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠছে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আনন্দ ভাগাভাগি করা। দামপাড়া গ্রামের মানুষ সেই শিক্ষাকেই বাস্তব জীবনে ধারণ করেছেন। তাদের এই উদ্যোগ এখন আশপাশের এলাকার জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা “এক গ্রাম, এক সমাজ” উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে বলেও মনে করছেন এলাকাবাসী।