ক্যানসার ও জটিল রক্তরোগ চিকিৎসায় ল্যাবএইড ক্যানসার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারে অত্যাধুনিক বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ও সেল থেরাপি সেন্টারের সফট লঞ্চ হয়েছে।
হাসপাতালটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২১ মে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম।
আয়োজনে হাসপাতালের চিফ বিজনেস অফিসার মাসুদ আহমেদ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় অত্যাধুনিক বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সুবিধার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এই উদ্যোগকে দেশের ক্যানসার ও জটিল রক্তরোগ চিকিৎসায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
স্বাগত বক্তব্যে সাকিফ শামীম দেশে ক্যানসার চিকিৎসায় উন্নত প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ল্যাবএইডের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো ও দক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্র চিকিৎসা খাতে এক অনন্য নজির স্থাপন করবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে হয়েছে। ল্যাবএইডের লক্ষ্য সেই বাস্তবতা পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
উদ্বোধনী আয়োজনে অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দিন শাহ বিএমটি সেন্টারের আধুনিক সুবিধা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও রোগীসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রোগীদের আন্তর্জাতিক মানের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সুবিধা দেশের ভেতরেই পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হবে।
এই সেল থেরাপি সেন্টারে থাকছে উন্নত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোসহ নিবেদিত বিএমটি ইউনিট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত দক্ষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম।
রোগ নির্ণয়ে থাকবে উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা। লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, মাল্টিপল মাইলোমা এবং বিভিন্ন জটিল রক্তরোগের জন্য রোগীকেন্দ্রিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা ক্রিটিক্যাল কেয়ার, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন সাপোর্ট, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ট্রিটমেন্ট প্রটোকল ও পুনর্বাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
চেয়ারম্যান ডা. এ এম শামীম তার বক্তব্যে হাসপাতালের সার্বিক অগ্রগতি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার নিয়ে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের বিভিন্ন কনসালটেন্ট ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বক্তব্য রাখেন এবং এই উদ্যোগকে দেশের ক্যানসার ও হেমাটোলজি চিকিৎসায় সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে হাসপাতালের সিইও ডা. সম্বিত কুমার দাস বলেন, রোগীকেন্দ্রিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ল্যাবএইড অঙ্গীকারবদ্ধ।
বাংলাদেশের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগটি নিয়েছে হাসপাতালটি।