নতুন স্পিকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন সরকার ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা ওয়াকআউট করেন।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্রনাথ দায়িত্ব গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিধানসভা সংঘাতের জায়গা নয়, বরং গঠনমূলক বিরোধিতার ক্ষেত্র। তিনি জানান, সরকার ও বিরোধী পক্ষকে সমানভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংবিধানের আলোকে বিরোধী দলের ভূমিকাকেও গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এরপর বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পরও মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ভয় কাটেনি, বহু মানুষ এখনও ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদে ঘরে ফেরানোর আহ্বান জানান।
জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ঘরছাড়া মানুষের বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তবে অতীতের সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন বিজেপি বিধায়ক ও প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
অধিবেশন শুরুর আগেই বিধানসভা কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শাসকদল বিজেপির সদস্যরা ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিলে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে ‘চোর চোর’ ও ‘ফাইল চোর’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় জাতীয় সঙ্গীত সঠিকভাবে পরিবেশন হয়নি অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিধায়কেরা সাময়িকভাবে কক্ষ ত্যাগ করেন। কয়েক মিনিট পর তারা পুনরায় অধিবেশনে যোগ দেন। সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে।