মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৯ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী লাভ ট্র্যাপে ফেলে ধর্ম লুকিয়ে মুসলিম তরুণীকে বিয়ে, গর্ভাবস্থায় চলে বর্বর নির্যাতন শিগগিরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হবে : ট্রাম্প বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ঘরের ভেতরে নেটওয়ার্ক সমস্যা দূর করতে বিটিআরসির নতুন উদ্যোগ ওয়েব সিরিজ নির্মাণ হচ্ছে শাহরুখের সেই আলোচিত সিনেমা ঘিরে জেলের বড়শিতে ধরা পড়ল ৮ ফুট লম্বা কুমির যেভাবে হত্যা করা হয় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেটকে হরমুজ বন্ধ, বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় আটকে পড়া হাজারো নাবিক

হত্যা পরিণত হলো অপমৃত্যুতে

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

বরগুনার তালতলী উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হযরত আলী (১৪) নামের এক কিশোরকে মারধর করার পর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার দুপুরে হযরত আলী মারা যাওয়ার আগে ও পরে তার মা আছিয়া বেগম সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্যে বলেছেন তার ছেলেকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। কিন্তু রাতে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়; মারধরের কারণেই কিশোরটির মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে হরিণখোলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে হযরত আলীসহ কয়েকজন কিশোর ফুটবল খেলছিল। এ সময় ওই মাঠের পাশ দিয়ে গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় শিক্ষক রহিম ঘরামীর ছেলে মুছা ঘরামী। হঠাৎ খেলার বলটি গরুর সামনে পড়লে গরু ভয় পেয়ে দৌড়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে মুছা ঘরামীসহ কয়েকজন মিলে হযরত আলীকে মারধর করে জখম করে।

অর্থাভাবে শনিবার আহত হযরত আলীর চিকিৎসা করতে না পারায় তার চাচাকে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে ঢাকা থেকে তার চাচা এসে ভাতিজাকে রোববার বেলা ১২টার দিকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালেই দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের সময় হযরত আলীর মৃত্যু হয়।

নিহতের মা আছিয়া বেগম একজন বিধবা ও দরিদ্র নারী। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বামী হারানোর পর একমাত্র সন্তান হযরত আলীকেই আঁকড়ে বেঁচে ছিলেন তিনি। স্বামী হারানোর পর একমাত্র ছেলেকেই ঘিরে ছিল তার সব স্বপ্ন। সেই সন্তানকে হারিয়ে এখন তিনি বাকরুদ্ধ ও অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে স্বজনরা। স্বজনদের ভাষ্য, মামলা চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য বা সামাজিক শক্তি না থাকায় তিনি শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যু মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহতের একাধিক স্বজন বলেন, হযরত আলী ছিল তার মায়ের একমাত্র সন্তান। এখন ছেলেকে হারিয়ে তিনি দিশেহারা। মামলা চালানো বা পরামর্শ দেওয়ার মতো পরিবারে শক্ত কেউ নেই। অন্যদিকে আছিয়া একা থাকার কারণে তাকে ভয়-ভীতিও দেখানো হচ্ছে। এবং আছিয়াকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সান্তনা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হত্যাকাণ্ড এখন অপমৃত্যুতে পরিণত হয়েছে।

তালতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, নিহতের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ইউডি মামলা রুজু করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আঘাতের প্রমাণ মিললে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102