ময়মনসিংহের নান্দাইলে তিন বছর বয়সি কন্যাশিশুর সামনে এক নারী (২৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষনের শিকার হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপিল) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গুরুতর অসুস্থ মা ও আহত শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর পাঁচদিন আগে নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী এলাকায় ওই নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন।
ওই নারী উপজেলার কান্দিউড়া গ্রামের ইন্দু মিয়ার বাড়ির পাশে মতি মিয়ার বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরে নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রামের সুজন মিয়া নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন, গত সোমবার রাতে তিনি পাশেই নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী বাজারে ইজিবাইক চালাচ্ছিলেন। ওই সময় গভীর রাতে শিশুকোলে এক নারীকে কাঁদতে দেখে কাছে গিয়ে জানতে চাইলে ওই নারী তাকে জানায়, তাকে (নারী) চারজন মিলে পাশের একটি বিলের পাশে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে আবার অন্য দুজন বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিলের পাশে ধর্ষণের সময় কাছে থাকা শিশুটি চিৎকার করলে তাকে জোরপূর্বক টেনে নিতে চাইলে তিনি ঝাপটে ধরে রাখেন। এ সময় ধর্ষণকারীরা শিশুকে ঘুষি মারে। এতে বাম চোখের নিচে ক্ষত হয়।
নারীর এসব বর্ণনা শুনে সুজন মিয়া নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে মতি মিয়ার স্ত্রী হবিনা বেগম ওই নারীকে সেবা দিয়ে খেতে ও থাকতে দেন। এর মধ্যে পাশের কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে কাজল মিয়া নামে এক যুবক গভীর রাতে এসে ওই নারীকে নিজের আত্মীয় বলে নিয়ে যেতে চাইলে নির্যাতনের শিকার নারী কাজলকে চেনে না বলে জানালে সে কেটে পড়ে।
এর মধ্যে এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়া ঘটনা ধামাচাপা দিকে তৎপর হয়ে ওঠেন। তিনি আশ্রয়দাতার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন কেন ওই নারীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কিছু টাকা যোগাড় করে তার কাছে দেওয়ার জন্য অন্যথায় ঝামেলায় পড়তে হবে। এই কথায় আশ্রয়দাতা মতি মিয়ার পরিবার ভীত হয়ে পড়েন।
নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, তিনি গত রোববার বিকালে ময়মনসিংহের একটি এলাকার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি ভালুকা যাওয়ার জন্য শিশুকন্যাকে সাথে নিয়ে রওনা হন। সন্ধ্যার পর তিনি পথ হারিয়ে ফেললে কয়েকজন লোক তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। পরে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে তাড়াইল সড়ক দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেখানেই একটি বিলের কাছে নিয়ে চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে অপেক্ষমাণ দুইজন পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে ফের ধর্ষণ করে।
নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন, ভিক্টিম নারী তার পরিচয় সঠিক বলতে পারছে না। পিবিআই পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। তবে, ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী বুঝা যাচ্ছে যে তিনি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নারীকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আগামীকাল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।