ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা এলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে কোনো স্বস্তি নেই। বরং নিকট ভবিষ্যতে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনাও ক্ষীণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এশীয় বাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় শুন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও শুন্য দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এই দুই কারণেই মূলত তেলের বাজারে চাপ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে কার্যত বাধাগ্রস্ত।
ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান থেকে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য শান্তি প্রস্তাব না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান অঘোষিত সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে সমস্যার মুখে পড়ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব মজুত থেকে রপ্তানি বাড়িয়েছে, তবুও তা বৈশ্বিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সরবরাহ ব্যবস্থার এই বিঘ্ন দ্রুত সমাধান না হলে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিও আরও তীব্র করতে পারে।