ব্যায়াম সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র হলেও, ভুল সময়ে বা ভুল নিয়মে ব্যায়াম করলে শরীরের উপকারের চেয়ে ক্ষতি হতে পারে বেশি। আপনার অনলাইন পোর্টালের জন্য এই বিষয়ের ওপর একটি বিস্তারিত এবং তথ্যবহুল প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:
ব্যায়ামের সঠিক সময়: সকাল না কি বিকেল?
ব্যায়ামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। এটি নির্ভর করে আপনার লক্ষ্য এবং শরীরের ওপর। তবে সকাল ও বিকেলের ব্যায়ামের আলাদা কিছু সুবিধা রয়েছে:
ভোর বা সকাল: সকালে ব্যায়াম করলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বৃদ্ধি পায়, যা সারাদিন ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়া সকালে ব্যায়াম করলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোন নিঃসরণ হয়, যা সারাদিন আপনাকে হাসিখুশি ও কর্মক্ষম রাখে। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য সকালের ব্যায়াম সবচেয়ে কার্যকর।
বিকেল বা সন্ধ্যা: গবেষণায় দেখা গেছে, বিকেলের দিকে শরীরের তাপমাত্রা এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা সর্বোচ্চ থাকে। ফলে এই সময়ে ভারী ব্যায়াম বা জিম করা সহজ হয়। যারা পেশি গঠন (Muscle building) করতে চান, তাদের জন্য বিকেল বা সন্ধ্যা উপযুক্ত সময়। তবে খেয়াল রাখবেন, ঘুমানোর ঠিক ২-৩ ঘণ্টা আগে ভারী ব্যায়াম করা উচিত নয়, এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
খালি পেট নাকি ভরা পেট?
ব্যায়ামের আগে খাবারের বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন:
১. খালি পেটে ব্যায়াম (Fasted Cardio): সকালে ঘুম থেকে উঠে একদম খালি পেটে হালকা ব্যায়াম (যেমন: হাঁটা বা জগিং) করলে শরীর সঞ্চিত চর্বি থেকে শক্তি সংগ্রহ করে। ফলে দ্রুত চর্বি কমে। তবে যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কম (Hypoglycemia) বা যারা উচ্চ রক্তচাপের রোগী, তাদের জন্য একদম খালি পেটে ব্যায়াম করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
২. ভরা পেটে ব্যায়াম: একদমই নয়
ভরা পেটে কখনো ব্যায়াম করা উচিত নয়। খাওয়ার ঠিক পরেই ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন পাকস্থলীর দিকে বেশি থাকে, ফলে পেশিতে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিতে পারে। এতে পেট কামড়ানো, বমি ভাব বা বদহজম হতে পারে।
ব্যায়ামের আদর্শ নিয়ম (প্রাক-ব্যায়াম খাবার)
ব্যায়াম শুরু করার অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে হালকা কিছু খাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। একে বলা হয় ‘প্রি-ওয়ার্কআউট মিল’।
একটি কলা বা আপেল খেতে পারেন।
এক মুঠো কাঠবাদাম বা ওটস খাওয়া যেতে পারে।
ব্যায়ামের ঠিক আগে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করুন।
ভারী খাবার (যেমন: ভাত, রুটি বা মাংস) খাওয়ার অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর ব্যায়াম করা নিরাপদ।
ব্যায়ামের শুরুতে মনে রাখুন ৩টি টিপস:
ওয়ার্ম-আপ: হুট করে ভারী ব্যায়াম শুরু করবেন না। আগে ৫-১০ মিনিট শরীর স্ট্রেচিং করে গরম করে নিন।
শরীরের ভাষা বুঝুন: ব্যায়ামের সময় খুব বেশি ক্লান্তি বা বুকে ব্যথা অনুভব করলে সাথে সাথে থামিয়ে দিন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: ব্যায়ামের পর শরীরকে রিকভারি করার সুযোগ দিন। অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম সুস্থ শরীরের জন্য অপরিহার্য।







