শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন

অহেতুক দুশ্চিন্তায় জীবন অতিষ্ঠ? জেনে নিন ওভারথিংকিং থামানোর ৫ উপায়

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

অতীতের কোনো ভুল কাজ নিয়ে আক্ষেপ কিংবা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে ভয়-এই দুইয়ের দোলাচলে আমাদের মস্তিষ্ক যখন সারাক্ষণ অপ্রয়োজনীয় চিন্তার জাল বুনতে থাকে, তাকেই বলা হয় ‘ওভারথিংকিং’। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত চিন্তা কোনো সমাধান আনে না, বরং সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। এটি মানুষের সৃজনশীলতা নষ্ট করে এবং ডিপ্রেশন বা উদ্বেগের দিকে ঠেলে দেয়।

অতিরিক্ত চিন্তা বা ‘ওভারথিংকিং’ বর্তমানে একটি বৈশ্বিক মানসিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এটি কেবল মানসিক শান্তিই নষ্ট করে না, বরং মানুষের কাজের গতি ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আপনিও কি সারাক্ষণ অহেতুক চিন্তায় ডুবে থাকেন? জীবনকে সহজ করতে অনুসরণ করতে পারেন এই ৫টি কার্যকরী কৌশল:

১. চিন্তার সময় নির্ধারণ করুন (Thinking Window)
সারাদিন চিন্তার সাগরে ডুবে না থেকে দিনের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট সময় (যেমন: ১৫-২০ মিনিট) বরাদ্দ রাখুন। এই সময়ে আপনি আপনার সব সমস্যা নিয়ে ভাববেন। যখনই সারাদিন অন্য কোনো চিন্তা মাথায় আসবে, নিজেকে বলুন— “এখন নয়, এ নিয়ে ভাবার জন্য আমার আলাদা সময় আছে।” এটি আপনার মস্তিষ্ককে বর্তমান কাজে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করবে।

২. নিয়ন্ত্রণহীন বিষয় নিয়ে ভাবা বন্ধ করুন
আমরা অনেক সময় এমন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করি যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যেমন— অন্য কেউ আপনাকে নিয়ে কী ভাবছে বা ১০ বছর পর কী হবে।

পরামর্শ: নিজের নিয়ন্ত্রণ আছে এমন কাজের দিকে ফোকাস করুন। যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তা মেনে নিতে শিখুন। ‘যা হবে দেখা যাবে’—এই ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলুন।

৩. মনোযোগ সরাতে সৃজনশীল কাজে যুক্ত হোন
অতিরিক্ত চিন্তা শুরু হলেই অলস বসে না থেকে নিজেকে কোনো কাজে ব্যস্ত করে ফেলুন। বাগান করা, রান্না করা, ছবি আঁকা কিংবা ঘর গোছানোর মতো কাজগুলো মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখে। শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলে শরীরে ভালো লাগার হরমোন নিঃসৃত হয়, যা দুশ্চিন্তা কমাতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে।

৪. লিখে ফেলার অভ্যাস (Journaling)
মাথার ভেতর ঘুরপাক খাওয়া নেতিবাচক চিন্তাগুলো যখন একটি ডায়েরিতে বা কাগজে লিখে ফেলবেন, তখন মনে হবে আপনার মাথার বোঝা অনেকখানি হালকা হয়ে গেছে। এটি আপনাকে সমস্যার স্বরূপ বুঝতে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে সাহায্য করবে। লিখে ফেলার পর দেখবেন অনেক চিন্তাই আসলে অর্থহীন ছিল।

৫. বর্তমানে বাস করার চর্চা (Mindfulness)
অতিরিক্ত চিন্তা সাধারণত হয় অতীত না হয় ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিন্তু সুস্থ থাকার একমাত্র উপায় হলো বর্তমান মুহূর্তে বেঁচে থাকা। গভীর শ্বাস নেওয়া বা ‘ব্রিদিং এক্সারসাইজ’ এক্ষেত্রে খুব কার্যকর। যখনই দুশ্চিন্তা বাড়বে, চোখ বন্ধ করে লম্বা লম্বা শ্বাস নিন এবং বর্তমান চারপাশকে অনুভব করার চেষ্টা করুন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি দেখেন অতিরিক্ত চিন্তার কারণে আপনার রাতে ঘুম হচ্ছে না, খাবারে রুচি নেই কিংবা সামাজিক সম্পর্কগুলো নষ্ট হচ্ছে, তবে কোনো বিশেষজ্ঞ কাউন্সিলর বা সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না। মানসিক স্বাস্থ্যও শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার: জীবনটা জটিল নয়, আমরাই আমাদের চিন্তা দিয়ে একে জটিল করে তুলি। তাই অহেতুক চিন্তা ঝেড়ে ফেলে বর্তমানকে উপভোগ করাই হোক আমাদের লক্ষ্য।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102