শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

৪০ পেরিয়ে পুরুষদের সুস্থতায় যেসব পরীক্ষা অপরিহার্য

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

চল্লিশ বছর বয়স পার হওয়ার পর পুরুষদের শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তনসহ বেশকিছু শারীরিক জটিলতা উঁকি দিতে শুরু করে। জীবনযাত্রার অনিয়ম আর কাজের চাপে অনেকেই নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সময় পান না। কিন্তু এই সময়ে সচেতনতাই পারে দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে মুক্তি দিতে।

একটি নিউজ পোর্টালের জন্য উপযোগী প্রতিবেদনটি নিচে তুলে ধরা হলো :

৪০ পেরিয়ে পুরুষদের সুস্থতায় যেসব পরীক্ষা অপরিহার্য
জীবনের চল্লিশ বছরকে ধরা হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এই বয়সের পর উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা এবং ডায়াবেটিসের মতো নীরব ঘাতক ব্যাধিগুলো শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য ৪০ বছরের পর প্রতিটি পুরুষের নিয়মিত বিরতিতে কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি।

নিচে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার তালিকা দেওয়া হলো যা নিয়মিত করানো উচিত:

১. ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিস পরীক্ষা
চল্লিশের পর টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি বা বংশগত ডায়াবেটিস আছে, তাদের বছরে অন্তত একবার খালি পেটে (Fasting Sugar) এবং খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে ‘HbA1c’ টেস্টের মাধ্যমে গত তিন মাসের গ্লুকোজের গড় মাত্রা জেনে নেওয়া নিরাপদ।

২. লিপিড প্রোফাইল (কোলেস্টেরল)
রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়লে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে ভালো ও খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ জানা যায়। আর্টারি বা ধমনীতে চর্বি জমছে কি না তা বুঝতে এটি খুবই কার্যকর।

৩. রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার মনিটরিং
উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই হার্ট ও কিডনির ক্ষতি করে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মেপে দেখা উচিত। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. প্রস্টেট ক্যানসার স্ক্রিনিং (PSA Test)
পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বয়স বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন (PSA) পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না তা ধরা সম্ভব। প্রস্রাবে সমস্যা থাকলে এই পরীক্ষাটি অবহেলা করা ঠিক নয়।

৫. হার্টের সুস্থতায় ইসিজি ও ইকো
অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রম হার্টের ওপর প্রভাব ফেলে। হার্টের রিদম বা কার্যক্ষমতা ঠিক আছে কি না তা বুঝতে ইসিজি (ECG) এবং প্রয়োজনে ইকো-কার্ডিওগ্রাম করা জরুরি।

৬. লিভার ও কিডনি ফাংশন টেস্ট
দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সেবন বা অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের ফলে লিভার ও কিডনির ওপর চাপ পড়ে। ক্রিয়েটিনিন (Creatinine) এবং এসজিপিটি (SGPT) পরীক্ষার মাধ্যমে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৭. চোখের স্ক্রিনিং ও হাড়ের ঘনত্ব
চল্লিশের পর দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়া বা গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া হাড়ের ঘনত্ব বা ক্যালসিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত, যা হাড় ক্ষয় রোধে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ 
নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি এই বয়সে সুস্থ থাকতে হলে: প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটুন, লবণের ব্যবহার কমিয়ে দিন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো’- এই কথাটি চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষদের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। বছরে অন্তত একবার ফুল বডি চেকআপ করানো হলে যেকোনো বড় সমস্যা প্রাথমিক স্তরেই শনাক্ত করা এবং সমাধান করা সম্ভব।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102