ঢাকা বাঙালির রান্নাঘর মানেই হরেক রকম মসলার সুবাস। কেবল স্বাদ কিংবা সুগন্ধ বাড়ানোই নয়, আমাদের হাতের কাছে থাকা এই মসলাগুলো একেকটি ‘মহৌষধ’। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এসব মসলা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন স্বীকার করছে যে, সঠিক পরিমাণে মসলার ব্যবহার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রদাহের মতো জটিল সমস্যা নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে।
চলুন জেনে নিই আমাদের চিরচেনা কিছু মসলার লুকিয়ে থাকা গুণাগুণ:
১. হলুদের জাদুকরী শক্তি
হলুদকে বলা হয় ‘প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক’। এর প্রধান উপাদান ‘কারকিউমিন’ শরীরের যেকোনো প্রদাহ বা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এটি লিভার পরিষ্কার রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
২. কালোজিরার ‘মৃত্যুহীন’ গুণ
বলা হয়ে থাকে, মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ওষুধ হলো কালোজিরা। এতে থাকা ‘থাইমোকুইনোন’ উপাদানটি হাঁপানি, অ্যালার্জি এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যায় দারুণ কার্যকর। প্রতিদিন সকালে মধু ও কালোজিরা খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হয়।
৩. মেথির মহিমা: নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তচাপ ও চিনি
যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বা যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য মেথি আশীর্বাদস্বরূপ। এটি রক্তে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়। এছাড়া মেথি ভেজানো পানি হজমশক্তি বাড়াতে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
৪. হৃদরোগের বন্ধু রসুন
রান্নায় রসুনের ব্যবহার শুধু স্বাদ বাড়ায় না, এটি ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। এটি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও কার্যকর।
৫. হজমের সহায়তায় আদা ও দারুচিনি
পেটের যেকোনো সমস্যা, বমি ভাব বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় আদার রস অতুলনীয়। অন্যদিকে দারুচিনি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখতে সাহায্য করে, যা ঠান্ডা-কাশি প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ
মসলার গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখতে অতিরিক্ত তাপে দীর্ঘক্ষণ রান্না না করাই ভালো। অনেক ক্ষেত্রে কাঁচা বা হালকা রোস্ট করা মসলা বেশি কার্যকর। তবে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগের চিকিৎসায় মসলাকে ওষুধের বিকল্প না ভেবে পরিপূরক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।