শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিশুদের অভুক্ত রেখে ধর্মীয় আচারের নামে নদীতেই ঢালা হলো ১১ হাজার লিটার দুধ সময় ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্পের! মার্কিন মসনদে জেডি ভ্যান্সকে বসানোর তোড়জোড় ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা ও বিতর্কিত আইন বাতিলের দাবি দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশ ইরানে হামলার জন্য নেতানিয়াহুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বুশ, ওবামা ও বাইডেন চিনি ছাড়ার ৭ দিনেই শরীর ও মস্তিষ্কে যে পরিবর্তন আসবে ঋতু পরিবর্তনে সর্দি-জ্বর থেকে বাঁচতে কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিকার পহেলা বৈশাখে ইলিশ সংকট, বিক্রি হচ্ছে আকাশছোঁয়া দামে স্বাদে ও ঐতিহ্যে বাংলার জনপদ: তিন জেলার তিন কিংবদন্তি খাবার পাকিস্তানে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধি দল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বাংলাদেশিদের উদ্যোগে মাদ্রাসা নির্মাণ

স্বাদে ও ঐতিহ্যে বাংলার জনপদ: তিন জেলার তিন কিংবদন্তি খাবার

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলার মাটি যেমন বৈচিত্র্যময়, এ দেশের মানুষের রসনা তৃপ্তিও ঠিক তেমনই অনন্য। একেক জেলার মাটির সোঁদা গন্ধে মিশে আছে একেক খাবারের স্বাদ। অনেক সময় খাবারের নাম দিয়েই চেনা যায় জেলাকে। আজ আমরা তুলে ধরব দেশের তিনটি জনপ্রিয় আঞ্চলিক খাবার-মেমনসিংহের চ্যাপা শুঁটকি ভর্তা, চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীর ইলিশ আর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি মাংস।

১. চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস: রাজকীয় আয়োজন
চট্টগ্রামের কথা উঠলেই সবার আগে আসে মেজবানি মাংসের নাম। এটি কেবল একটি খাবার নয়, বরং চট্টগ্রামের আতিথেয়তার প্রতীক।

পেছনের ইতিহাস:
‘মেজবান’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ মেজবান বা মেহমানদারি। ফারসি ভাষার প্রভাবে এই নামটির উৎপত্তি। প্রাচীনকাল থেকেই চট্টগ্রামে বড় কোনো আয়োজন বা মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাধারণ মানুষকে আপ্যায়নের প্রথা চালু ছিল। মেজবানি মাংসের বিশেষত্ব হলো এর মশলা এবং রান্নার পদ্ধতি, যা সাধারণ গরুর মাংসের চেয়ে ভিন্ন।

মূল উপকরণ ও তৈরির বিশেষত্ব:
উপকরণ: গরুর মাংস, প্রচুর পরিমাণে মেজবানি মশলা (জায়ফল, জয়ত্রীর প্রাধান্য থাকে), সরিষার তেল এবং বিশেষ এক ধরনের ডাল।

রান্নার বিশেষত্ব: এই রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। দীর্ঘক্ষণ হালকা আঁচে মাংস কষানো হয় যতক্ষণ না হাড় থেকে মাংস নরম হয়ে আসে। মেজবানিতে সাধারণ ঝোলের বদলে মাংসের সাথে ‘নলা কাঞ্জি’ বা হাড়ের জুস পরিবেশন করা হয়।

২. চুয়াডাঙ্গার চুকা ও মাথাভাঙ্গার ইলিশ
অনেকেই জানেন না, চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীর ইলিশ স্বাদে ও গন্ধে পদ্মার ইলিশকেও হার মানায়। এর সাথে আছে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী টক বা ‘চুকা’।

পেছনের ইতিহাস:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা এবং দামুড়হুদা এলাকার মানুষের কাছে ‘চুকা’ বা অম্ল স্বাদের এই খাবারটি খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে গরমকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে তেঁতুল বা কাঁচা আম দিয়ে এই রান্না করা হয়। মাথাভাঙ্গা নদীর মিষ্টি জলের ইলিশের সাথে এই টক রান্নার মিশেল এক দারুণ লোকজ সংস্কৃতি।

মূল উপকরণ ও তৈরির বিশেষত্ব:
উপকরণ: মাথাভাঙ্গা নদীর টাটকা ইলিশ, পাকা তেঁতুল বা চালতা, সরিষার তেল এবং শুকনো মরিচ।

রান্নার বিশেষত্ব: মাছ খুব একটা না ভেজে তেঁতুলের ঘন টকে রান্না করা হয়। এটি মূলত ঝোল জাতীয় খাবার যা ভাতের সাথে শেষ পাতে খাওয়ার চল বেশি।

৩. ময়মনসিংহের চ্যাপা শুঁটকির ভর্তা
ভর্তা ও শুঁটকি প্রেমীদের কাছে ময়মনসিংহের চ্যাপা শুঁটকির ভর্তা একটি অনন্য নাম। এটি মূলত ব্রহ্মপুত্র নদের আশপাশের জনপদের সিগনেচার ডিশ।

পেছনের ইতিহাস:
প্রাচীনকালে যখন ব্রহ্মপুত্র নদে প্রচুর পুঁটি মাছ ধরা পড়ত, তখন জেলেরা বাড়তি মাছ সংরক্ষণের জন্য মাটি চাপা দিয়ে রাখতেন। সেখান থেকেই এর নাম হয়েছে `চ্যাপা’। মাটির হাঁড়িতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাসখানেক রেখে এটি তৈরি করা হয়। ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি সংস্কৃতির অংশ।

মূল উপকরণ ও তৈরির বিশেষত্ব:
উপকরণ: চ্যাপা শুঁটকি, প্রচুর দেশি পেঁয়াজ, রসুন এবং পোড়ানো লাল মরিচ।

রান্নার বিশেষত্ব: এই ভর্তার স্বাদ মূলত নির্ভর করে মশলার পরিমাণের ওপর। শুঁটকি ভালো করে ধুয়ে তেলে ভেজে নিয়ে তাতে পেঁয়াজ ও রসুনের পরিমাণ বাড়িয়ে পাটায় পেষা হয়। ময়মনসিংহে এটি অনেক সময় ‘কলা পাতায় মোড়ানো’ অবস্থায় ভাপে তৈরি করা হয়।

খাবার শুধু পেটের ক্ষুধা মেটায় না, এটি একটি অঞ্চলের ইতিহাস ও মানুষের জীবনধারাকে বহন করে। এই ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো আজ শুধু নির্দিষ্ট জেলায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং সারদেশের মানুষের প্রিয় তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। আপনার রান্নাঘরে এই রেসিপিগুলো চেখে দেখে আপনিও হারিয়ে যেতে পারেন বাংলার শেকড়ে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102