বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের এক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন বা নিজস্ব বড় কমিউনিটি পরিচালনা করেন, তাদের জন্য প্ল্যাটফর্মটি আয়ের নতুন পথ খুলে দিতে পারে। মেটার মালিকানাধীন এই অ্যাপটি শিগগিরই তাদের ‘চ্যানেল’ ফিচারে সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে।
কী থাকছে এই নতুন ফিচারে?
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফ্রিতে তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করতে পারেন। তবে নতুন এই আপডেটটি কার্যকর হলে চ্যানেল পরিচালকেরা তাদের বিশেষ বা ‘এক্সক্লুসিভ’ কনটেন্ট দেখার জন্য ফলোয়ারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফি বা সাবস্ক্রিপশন চার্জ দাবি করতে পারবেন। অনেকটা ইউটিউব মেম্বারশিপ বা প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশনের মতো, ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করলেই কেবল সেই চ্যানেলের বিশেষ আপডেটগুলো দেখতে পাবেন।
চ্যানেল পরিচালকদের বাড়তি সুবিধা
এই ফিচারের মাধ্যমে ক্রিয়েটররা সহজেই তাদের আয়ের উৎস তৈরি করতে পারবেন। এছাড়াও:
সাবস্ক্রাইবার ট্র্যাকিং: কতজন ব্যবহারকারী অর্থ দিয়ে চ্যানেলের সদস্য হয়েছেন, তা আলাদাভাবে দেখার সুযোগ পাবেন এডমিনরা।
জনপ্রিয়তার পরিমাপ: সাধারণ ফলোয়ার সংখ্যার পাশাপাশি সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা আলাদাভাবে প্রদর্শিত হওয়ায় চ্যানেলের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট: যারা টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করবেন, তাদের জন্য বিশেষ পোস্ট, অগ্রিম তথ্য বা অতিরিক্ত ভিডিও সরবরাহ করার সুবিধা থাকবে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীরা দেখতে পাবেন না।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর প্রভাব
হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে পুরোপুরি ঐচ্ছিক রাখার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ সাধারণ ব্যবহারকারীরা বর্তমানের মতোই অধিকাংশ চ্যানেল বিনা মূল্যে ফলো করতে পারবেন। কেবল বিশেষ কোনো চ্যানেলের প্রিমিয়াম কনটেন্ট দেখার আগ্রহ থাকলেই তারা সাবস্ক্রিপশনের দিকে ঝুঁকবেন।
বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ কেবল একটি মেসেজিং অ্যাপ থেকে বেরিয়ে এসে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি শক্তিশালী উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মানসম্মত ও তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্টের সরবরাহ বাড়বে, অন্যদিকে দক্ষ ক্রিয়েটররা তাদের পরিশ্রমের যথাযথ আর্থিক মূল্যায়ন পাবেন।