দেশে জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার নিয়ে এসেছে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ। এখন থেকে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে তেল নিতে হবে চালকদের। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর দুটি পাম্পে মোটরসাইকেলের জন্য এই সেবা শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আপনি যদি একজন বাইকার হন এবং ঝামেলাহীনভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করতে চান, তবে এখনই জেনে নিন কীভাবে ডিজিটাল এই ফুয়েল পাসের জন্য নিবন্ধন করবেন।
নিবন্ধনের জন্য যা যা প্রয়োজন
নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিচের তথ্যগুলো হাতের কাছে রাখুন-
যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর।
চ্যাসিস নম্বর ও ইঞ্জিন নম্বর।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর।
যানবাহনের উৎপাদনের বছর (Manufacturing Year)।
সক্রিয় একটি মোবাইল নম্বর।
ধাপে ধাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া
১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের নির্ধারিত ওয়েবসাইট fuelpass.gov.bd লিংকে প্রবেশ করুন।
২. তথ্য যাচাই: ওয়েবসাইটের পোর্টালে আপনার যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চ্যাসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর, এনআইডি এবং উৎপাদনের বছর সঠিকভাবে ইনপুট দিন। সব ঠিক থাকলে ‘যানবাহন যাচাই করুন’ অপশনে ক্লিক করুন।
৩. মোবাইল নম্বর ও ওটিপি: তথ্য মিলে গেলে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিতে হবে। এরপর মোবাইলে আসা ওটিপি (এককালীন পাসওয়ার্ড) কোডটি নির্দিষ্ট ঘরে বসিয়ে যাচাই করুন।
৪. পাসওয়ার্ড সেট: সবশেষে নিজের পছন্দমতো একটি পাসওয়ার্ড সেট করে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।
নিবন্ধন হয়ে গেলে আপনি একটি নিজস্ব কিউআর কোড পাবেন। ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার সময় এই কোডটি প্রদর্শন করলেই স্বচ্ছতার সঙ্গে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।
কেন এই উদ্যোগ?
বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তেল বিতরণের ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট এবং ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তেল নেওয়ায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে-
প্রতিটি যানবাহনের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ নিশ্চিত হবে।
তৎক্ষণাৎ নজরদারি (Real-time monitoring) করা যাবে।
তেল চুরির সুযোগ কমবে এবং পাম্পে ভিড় হ্রাস পাবে।
বর্তমানে যেখানে সুবিধাটি পাবেন
আপাতত রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং আসাদগেটের সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন থেকে মোটরসাইকেল চালকরা এই সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে দ্রুতই এটি বড় পরিসরে চালু হবে।