বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের দিনের সিংহভাগ সময় কাটে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। ল্যাপটপ, স্মার্টফোন কিংবা টেলিভিশন-প্রযুক্তির এই ভিড়ে সবচেয়ে বেশি চাপে থাকে আমাদের দুটি চোখ। অথচ শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল এই অঙ্গটির প্রতিই আমরা অনেক সময় সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছুটা পরিবর্তন আনলেই দীর্ঘকাল চোখের দৃষ্টিশক্তি অটুট রাখা সম্ভব।
চোখ ভালো রাখতে প্রতিদিনের তালিকায় যে বিষয়গুলো রাখা জরুরি:
১. ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন
যারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করেন বা মোবাইল ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এই নিয়মটি মহৌষধ। প্রতি ২০ মিনিট পর পর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের পেশি শিথিল হয় এবং চোখের ক্লান্তি দূর হয়।
২. পর্যাপ্ত পানির ঝাপটা ও বিশ্রাম
বাইরে থেকে ফিরলে বা দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে চোখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। এতে চোখের ভেতরে জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার হয়। এছাড়া কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে কয়েক মিনিট বিশ্রাম নিন। হাতের তালু ঘষে সামান্য গরম করে চোখের ওপর আলতো করে ধরে রাখলে (পামিং) রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
৩. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
চোখ ভালো রাখতে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার অপরিহার্য। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ছোট মাছ (যেমন: মলা, ঢেলা), পালং শাক এবং রঙিন ফলমূল রাখুন। এছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার এবং বাদাম চোখের রেটিনা ভালো রাখতে সাহায্য করে।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম
চোখের স্নায়ুগুলোকে সতেজ রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। ঘুমের অভাব চোখের নিচে কালো দাগ পড়ার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা করে দিতে পারে।
৫. আলোর সঠিক ব্যবহার
অন্ধকারে বা খুব কম আলোতে মোবাইল ফোন বা বই পড়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এটি চোখের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। আবার সরাসরি খুব তীব্র আলোও চোখের জন্য ক্ষতিকর। পড়ার টেবিল বা কাজের জায়গায় আলোর সঠিক বিন্যাস নিশ্চিত করুন।
৬. সানগ্লাস ও সুরক্ষা
দিনের বেলা বাইরে বের হলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে চোখ বাঁচাতে ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করুন। এছাড়া যারা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে কাজ করেন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে ব্লু-কাট লেন্স বা অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ চশমা ব্যবহার করতে পারেন।
৭. নিয়মিত চোখ পরীক্ষা
কোনো সমস্যা না থাকলেও বছরে অন্তত একবার অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চোখ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের বয়স ৪০-এর উপরে, তাদের গ্লুকোমা বা ছানি পড়ার মতো সমস্যাগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি।
চোখ আমাদের পৃথিবীর আলো দেখায়। তাই এই অমূল্য সম্পদের যত্নে অবহেলা নয়, বরং সচেতনতাই হোক আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস। আপনার চোখের সামান্য যত্নই নিশ্চিত করতে পারে একটি উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ ভবিষ্যৎ।