বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি: চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ উচ্ছেদের তালিকায় ৯৫ শতাংশই মুসলিম, নন্দীগ্রামে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের ভয়াবহ চিত্র এ বছর মার্কিন নাগরিকদের হজে না যাওয়ার পরামর্শ দূতাবাসের পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ : লোকজ ঐতিহ্য নাকি শহুরে প্রথা? সুস্থ জীবনের মূলমন্ত্র নিয়মিত ব্যায়াম গরু বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রি, জবাই করা ১৪ ঘোড়া উদ্ধার ইসরায়েল হামলা চালালেও যুদ্ধবিরতিতে রাজি হিজবুল্লাহ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ‘শোচনীয় পরাজয়’ বরণ করেছে : রাশিয়া ১৬৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ : বিজিবি হাতিরঝিলে বাসা থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ঝকঝকে হাসি ও সুস্থ মাড়ি: দাঁতের যত্নে প্রতিদিন যা করবেন

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

কথায় আছে, ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝা যায় না’। কিন্তু এক চিলতে সুন্দর হাসি আর সুস্থ শরীরের জন্য মজবুত দাঁতের কোনো বিকল্প নেই। অনেক সময় সঠিক যত্নের অভাবে দাঁতে ক্যাভিটি, মাড়িতে ব্যথা বা মুখে দুর্গন্ধের মতো সমস্যায় আমরা ভুগে থাকি। অথচ দৈনন্দিন জীবনে সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই আজীবন দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখা সম্ভব।

আপনার প্রতিদিনের রুটিনে দাঁতের যত্নে যা যা থাকা প্রয়োজন:

১. দিনে দুবার সঠিক নিয়মে ব্রাশ
দাঁতের যত্নে সবচেয়ে প্রাথমিক কাজ হলো ব্রাশ করা। সকালে নাস্তার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে—এই দুবার অন্তত ২ মিনিট ধরে ব্রাশ করতে হবে। ব্রাশ করার সময় দাঁতের ওপর-নিচ এবং ভেতরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। তবে খুব জোরে ঘষাঘষি করা যাবে না, এতে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

২. প্রতি তিন মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন
একই ব্রাশ দিনের পর দিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। ব্রাশের শলাকা বা ব্রিসলগুলো যখনই বাঁকা বা অকার্যকর হয়ে যাবে, তখনই সেটি পরিবর্তন করুন। সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করা আদর্শ। সবসময় নরম ব্রিসলের (Soft Bristle) ব্রাশ ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

৩. ফ্লসিং করার অভ্যাস
ব্রাশ অনেক সময় দাঁতের চিপায় জমে থাকা খাবার পরিষ্কার করতে পারে না। এজন্য দিনে অন্তত একবার ‘ডেন্টাল ফ্লস’ বা বিশেষ সুতো ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করুন। এটি মাড়ির রোগ ও ক্যাভিটি প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর।

৪. চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় নিয়ন্ত্রণ
চকোলেট, মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চা-কফি দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের প্রধান কারণ। এই ধরনের খাবার খাওয়ার পরপরই কুলি করে মুখ ধুয়ে ফেলার অভ্যাস করুন। বিশেষ করে রাতে মিষ্টি জাতীয় কিছু খেয়ে ব্রাশ না করে ঘুমানো দাঁতের জন্য চরম ক্ষতিকর।

৫. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার
দাঁত ও মাড়ি শক্ত করতে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার নিয়মিত খান। দুধ, দই, পনিরের পাশাপাশি টক জাতীয় ফল (লেবু, আমলকী), সবুজ শাকসবজি এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। আপেল বা গাজরের মতো শক্ত ফল চিবিয়ে খেলে দাঁতের প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার হয়।

৬. ধূমপান বর্জন
ধূমপান দাঁতে কালচে ছোপ ফেলে এবং মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া ধূমপানের ফলে মাড়ির রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, যা দাঁত আলগা হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

৭. চিকিৎসকের পরামর্শ
দাঁতে কোনো সমস্যা থাকুক বা না থাকুক, বছরে অন্তত দুইবার (প্রতি ৬ মাস অন্তর) ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে দাঁত চেকআপ করানো উচিত। স্কেলিং বা পলিশিংয়ের মাধ্যমে দাঁতের গোড়ায় জমে থাকা পাথর (টারটার) পরিষ্কার করলে মাড়ি সুস্থ থাকে।

অবহেলার কারণে সামান্য দাঁতের ব্যথা থেকে বড় ধরনের ইনফেকশন হতে পারে। তাই অলসতা ত্যাগ করে প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিটের সচেতনতাই পারে আপনার অমূল্য দাঁতগুলোকে আজীবন সুরক্ষিত রাখতে। মনে রাখবেন, সুস্থ দাঁত মানেই আত্মবিশ্বাসী হাসি!

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102