শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিশুদের অভুক্ত রেখে ধর্মীয় আচারের নামে নদীতেই ঢালা হলো ১১ হাজার লিটার দুধ সময় ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্পের! মার্কিন মসনদে জেডি ভ্যান্সকে বসানোর তোড়জোড় ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা ও বিতর্কিত আইন বাতিলের দাবি দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশ ইরানে হামলার জন্য নেতানিয়াহুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বুশ, ওবামা ও বাইডেন চিনি ছাড়ার ৭ দিনেই শরীর ও মস্তিষ্কে যে পরিবর্তন আসবে ঋতু পরিবর্তনে সর্দি-জ্বর থেকে বাঁচতে কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিকার পহেলা বৈশাখে ইলিশ সংকট, বিক্রি হচ্ছে আকাশছোঁয়া দামে স্বাদে ও ঐতিহ্যে বাংলার জনপদ: তিন জেলার তিন কিংবদন্তি খাবার পাকিস্তানে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধি দল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বাংলাদেশিদের উদ্যোগে মাদ্রাসা নির্মাণ

ঋতু বদলে ঘরে ঘরে বাড়ছে অসুখ, সচেতনতার বিকল্প নেই

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

প্রকৃতিতে এখন ঋতু পরিবর্তনের হাওয়া। দিনের বেলা তীব্র গরম আর শেষ রাতে হালকা শীত-আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি আচরণে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে এই সময়ে ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি, কাশি, ভাইরাল ফিভার এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। শিশু থেকে বৃদ্ধ, কেউই বাদ যাচ্ছেন না এই ‘সিজনাল ফ্লু’ থেকে। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্যানিক বা আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক সচেতনতাই পারে সুস্থতা নিশ্চিত করতে।

ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘরে ঘরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সর্দি, কাশি, জ্বরসহ নানা রোগব্যাধি।

কেন বাড়ছে এই অসুখ?
ঋতু পরিবর্তনের সময় বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। এই সময় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ পায়। এছাড়া বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অ্যালার্জি ও অ্যাজমার সমস্যা প্রকট হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হঠাত এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে না পারলেই মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।

সাধারণ উপসর্গগুলো কী কী?
তীব্র বা হালকা জ্বর ও শরীর ব্যথা।

গলা ব্যথা, শুকনো কাশি বা সর্দি।

মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা।

পাকস্থলীর সমস্যা বা হজমে বিঘ্ন ঘটা।

সুস্থ থাকতে চিকিৎসকদের পরামর্শ

এই সময়ে রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:

১. পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার: শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি বা ফলের রস পান করুন। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।

২. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল (যেমন- লেবু, কমলা, মাল্টা) এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। রাস্তার খোলা খাবার বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় পরিহার করা শ্রেয়।

৩. পোশাক নির্বাচনে সতর্কতা: রোদে বের হলে হালকা সুতি কাপড় পরুন। আবার শেষ রাতে যখন তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়, তখন পাতলা চাদর বা গায়ে দেওয়ার মতো কিছু সাথে রাখুন।

৪. পরিচ্ছন্নতা ও মাস্ক ব্যবহার: বাইরে থেকে ফিরে ভালোভাবে হাত-মুখ ধোয়ার অভ্যাস করুন। ধুলোবালি থেকে বাঁচতে এবং ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকর।

৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শরীর দুর্বল বোধ করলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ঘুম শরীরের কোষগুলোকে সতেজ করতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
সাধারণ সর্দি-জ্বর কয়েক দিনেই সেরে যায়। তবে যদি জ্বরের মাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বা একটানা ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকে, তবে দেরি না করে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টুকুতে একটু বাড়তি সতর্কতা আমাদের অনেক বড় অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে পারে। মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। তাই নিজে সচেতন হোন এবং পরিবারের সবাইকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102