সারাদেশে ক্রমাগত বাড়ছে তাপমাত্রা। অসহনীয় এই গরমে ঘরে-বাইরে সবখানেই মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। তীব্র দাবদাহের কারণে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) এবং ডায়রিয়ার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ থাকতে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা বিশেষ কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
১. পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পানি পান
গরমের সবথেকে বড় ঝুঁকি হলো শরীর থেকে পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে যাওয়া।
পরামর্শ: তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ২-৩ লিটার নিরাপদ পানি পান করুন। বাইরে বের হলে অবশ্যই সাথে পানির বোতল রাখুন।
বিকল্প: ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা স্যালাইন পান করা যেতে পারে। তবে রাস্তার ধারের খোলা শরবত বা বরফ দেওয়া পানীয় পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
২. হিট স্ট্রোক থেকে সাবধান
শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হয়ে গেলে এবং ঘাম বন্ধ হয়ে গেলে তা হিট স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।
সতর্কতা: সরাসরি রোদে বেশিক্ষণ থাকবেন না। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদের তীব্রতা সবথেকে বেশি থাকে, এই সময়ে কাজ ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো।
সুরক্ষা: বাইরে বের হলে ছাতা, হ্যাট বা টুপি এবং রোদচশমা (সানগ্লাস) ব্যবহার করুন
৩. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
গরমের সময় হজমের সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। তাই খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।
কী খাবেন: সহজে হজম হয় এমন টাটকা খাবার এবং রসালো ফল (যেমন- তরমুজ, শসা, বাঙ্গি) বেশি করে খান।
কী বর্জন করবেন: অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, বাসি খাবার এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (চা-কফি) শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে দেয়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
৪. পোশাক ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা
গরমে স্বস্তিতে থাকতে পোশাকের ধরণ একটি বড় ভূমিকা পালন করে।
পরামর্শ: ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন। সিন্থেটিক কাপড় এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি ঘাম শুষে নিতে পারে না এবং ত্বকে র্যাশ তৈরি করে। প্রতিদিন অন্তত একবার গোসল করার চেষ্টা করুন।
৫. শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর
স্কুলগামী শিশু এবং নবজাতকদের গরমে কষ্ট বেশি হয়। তাদের ত্বকে ঘামাচি বা ইনফেকশন হতে পারে। শিশুদের পর্যাপ্ত তরল খাবার দেওয়া এবং সারাক্ষণ ঘরের ঠান্ডা পরিবেশে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
যদি হঠাৎ মাথা ঘোরে, তীব্র মাথাব্যথা হয় বা শরীর অতিরিক্ত দুর্বল লাগে, তবে দেরি না করে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অতিরিক্ত গরমে শারীরিক কোনো অস্বস্তিকে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে।