চৈত্র-বৈশাখের এই তীব্র দহনে জনজীবন ওষ্ঠাগত। সূর্যের প্রখর তাপ আর অতিরিক্ত আর্দ্রতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের ত্বক। ঘামাচি, সানবার্ন (রোদে পোড়া ভাব), ব্রণ এবং ত্বকের তৈলাক্ততা এই সময়ের সাধারণ সমস্যা। তবে একটু সচেতন হলে এই গরমেও ত্বক রাখা সম্ভব প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল।
গরমে ত্বকের সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন:
১. নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা
বাইরে থেকে ফিরে বা অতিরিক্ত ঘামলে দ্রুত মুখ ধুয়ে ফেলা জরুরি। গরমে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই দিনে অন্তত দুইবার মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। তবে বারবার সাবান ব্যবহার না করে মাঝে মাঝে শুধু পানির ঝাপটা দিলেও ত্বক সতেজ থাকে।
২. সানস্ক্রিন ব্যবহারে অবহেলা নয়
রোদ থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিনের কোনো বিকল্প নেই। বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে মুখ, হাত ও ঘাড়ের খোলা অংশে এসপিএফ (SPF) ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। মেঘলা দিন হলেও সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া যাবে না।
৩. ময়েশ্চারাইজার ও হাইড্রেশন
অনেকেই মনে করেন গরমে ময়েশ্চারাইজার দরকার নেই, যা ভুল ধারণা। গরমে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ওয়াটার-বেসড বা জেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এছাড়া ত্বক ভেতর থেকে সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাবের পানি ও রসালো ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।
৪. ঘরোয়া প্যাকের ব্যবহার
রোদে পোড়া ভাব কমাতে চন্দন বা অ্যালোভেরা জেল খুব কার্যকর। এছাড়া শসার রস বা টমেটোর স্লাইস মুখে ঘষলে ত্বকের ক্লান্তি দূর হয় এবং শীতল অনুভূতি পাওয়া যায়। সপ্তাহে অন্তত একদিন স্ক্রাবিং করলে ত্বকের মৃত কোষ দূর হবে।
৫. সঠিক মেকআপ ও পোশাক নির্বাচন
গরমে ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলাই ভালো। যতটা সম্ভব হালকা বা ‘নো-মেকআপ’ লুকে থাকার চেষ্টা করুন। এছাড়া বাইরে বের হওয়ার সময় সুতির আরামদায়ক পোশাক, রোদচশমা এবং ছাতা ব্যবহার করুন।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে ত্বকে কোনো র্যাশ বা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দিলে নিজে নিজে কোনো ক্রিম ব্যবহার না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই সুস্থ থাকে।