বিটরুট বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে অন্যতম প্রিয় সবজি। উজ্জ্বল লাল রঙের এই সবজিটি কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, বরং একে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ার হাউস। প্রকৃতির এক অনন্য উপহার বিটরুট। এক সময় আমাদের দেশে এটি খুব একটা পরিচিত না থাকলেও, বর্তমানে এর জাদুকরী স্বাস্থ্যগুণের কারণে এটি ‘সুপারফুড’-এর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করতে বিটরুটের জুড়ি নেই।
বিটরুটের পুষ্টি উপাদান
বিটরুটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন-বি৬ এবং ভিটামিন-সি। এ ছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ডায়েটারি নাইট্রেট, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বিটরুটের কার্যকরী গুণাগুণসমূহ:
১. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ:
বিটরুটে থাকা নাইট্রেট উপাদান শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। এটি রক্তনালিগুলোকে শিথিল ও প্রসারিত করে, ফলে রক্তচাপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
২. লিভারের সুরক্ষা:
বিটরুটে রয়েছে ‘বেটেইন’ নামক এক বিশেষ উপাদান, যা লিভারে চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে লিভারকে সুস্থ রাখে।
৩. তাৎক্ষণিক শক্তি বৃদ্ধি:
অ্যাথলেট বা ব্যায়ামবিশারদদের জন্য বিটরুট একটি প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিঙ্ক। এটি পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়, ফলে শারীরিক পরিশ্রম করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৪. রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ:
যাঁরা আয়রনের অভাবে বা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য বিটরুট মহৌষধ। এটি শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
৫. হজম শক্তি ও ওজন নিয়ন্ত্রণ:
বিটরুটে প্রচুর আঁশ বা ফাইবার থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে ওজন কমানোর যাত্রায় এটি দারুণ কার্যকর।
৬. উজ্জ্বল ত্বক ও চুল:
এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধ করে এবং প্রাকৃতিক লাবণ্য ফিরিয়ে আনে। এটি চুলের গোড়া মজবুত করতেও সাহায্য করে।
কিভাবে খাবেন?
বিটরুট কাঁচা সালাদ হিসেবে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এ ছাড়া এর জুস বা স্মুদি বানিয়ে পান করা যায়। তবে রান্নার ক্ষেত্রে খুব বেশি সিদ্ধ না করে হালকা ভাপে রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।
সতর্কতা
যাঁদের কিডনিতে পাথরের সমস্যা আছে, তাঁদের বিটরুট খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এতে থাকা অক্সালেট পাথর জমার ঝুঁকি কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে।