সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন

চীনের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি রীতিমতো হুমকির মুখে। এতে অস্থির হয়েছে বিশ্বের জ্বালানি বাজার। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় চালু করতে এবার চীনের সহায়তা চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় রোববার (১৫ মার্চ) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ সহায়তার আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, চীনেরও এগিয়ে আসা উচিত। কারণ, চীন তাদের প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়েই পায়।’ বেইজিং সফরের আগে এ বিষয়ে চীনের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সফরটি পিছিয়ে দিতে পারি।’

এদিকে হরমুজ ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ন্যাটো মিত্রদের সতর্ক করেছেন। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে তারা সহায়তা না করলে ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হতে পারে।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরতি কার্যকর করা এবং মার্চের শেষে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পথ সুগম করতে প্যারিসে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনা উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের মধ্যে দুই দিনব্যাপী আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, যারা এই নৌপথের সুবিধাভোগী দেশ, তাদেরই এটি সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করা উচিত।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানি বাহিনী জাহাজ চলাচলে আক্রমণ শুরু করলে ট্রাম্প গত শনিবার বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি জানান, এই সহায়তার মধ্যে মাইন-সুইপার (মাইন অপসারণকারী জাহাজ) এবং ড্রোন ও নৌ-মাইন মোকাবিলায় অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ইরান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর চরম আঘাত হানছি। প্রণালিতে কিছুটা ঝামেলা করা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার নেই। সুবিধাভোগী দেশগুলোর উচিত আমাদের সঙ্গে এখানে পাহারায় অংশ নেওয়া।’

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত এই প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজনে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ আইল্যান্ড’-এ আরও হামলা চালানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেখানে আঘাত করতে পারি এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা তাদের নেই।’

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে ব্রিটেনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যকে এক নম্বর মিত্র ভাবা হয়, অথচ আমি যখন তাদের আসতে বললাম, তারা আসতে চাইল না।’ ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে এনেছে, তখন ব্রিটেন জাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102