রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হেনেছে। এ পর্যন্ত দুই জেলায় ৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এ দুর্যোগে অল্প সময়ের মধ্যেই জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী সন্ধ্যার পর আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা দিতে শুরু করে। এরপরই শুরু হয় প্রবল দমকা হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টি। রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক স্থানে গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয় এবং কোথাও কোথাও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়।
হঠাৎ নেমে আসা এই ঝড়-বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ভাসমান ও নিম্নআয়ের মানুষজন। যারা ফুটপাত বা খোলা জায়গায় অবস্থান করছিলেন, তারা দ্রুত আশপাশের ভবনের নিচে বা ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ঝড়ের সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকায় হঠাৎ করেই আবহাওয়ায় শীতলতার অনুভূতি ফিরে আসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী মৌসুমী স্বাভাবিক লঘুচাপ বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে প্রথম দিনে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ অস্থায়ী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, শনিবারও রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কয়েকটি স্থানে এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।
এদিকে আকস্মিক এই ঝড় ও বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলশিক্ষার্থী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া নেত্রকোণায় বজ্রপাতে আরও দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।