রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

জমিজমার বিরোধ, বাবাকে পিটিয়ে মারল দুই ছেলে

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

কক্সবাজার টেকনাফের সাবরাং নয়াপাড়ায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ছেলের মারধরে বাবা কালা মিয়া (৭০) প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত কালা মিয়া টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের পুরাতন পাড়ার বাসিন্দা। সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে টেকনাফ হাসপাতালে আনার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানায় পরিবার এবং প্রতিবেশীরা।

টেকনাফ হাসপাতালের চিকিৎসক মামুন বলেন, হাসপাতালে ঢোকার আগে তার মৃত্যু হয়। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। বাবাকে মারধর করা দুই ছেলে শাকের আলম ও মনির আলম ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, কালা মিয়ার স্ত্রী তথা সন্তানদের মায়ের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে দুই ছেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জমিটি দুই ছেলের নামে লিখে দেওয়ার জন্য বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। বাবা তাদের মায়ের সম্পত্তি সব ওয়ারিশকে ভাগ করে দেওয়ার পর জমি বিক্রি করবেন বলে জানায়। তবে তা মানতে রাজি হয়নি দুই ছেলে। এরই জেরে বাবাকে তুলে নিয়ে যায় দুই ছেলে। এরপর বেধড়ক মারধর করে।

নিহত কালামিয়ার বড় মেয়ে এলম বাহার বলেন, ‘বাবাকে গতকাল মনিরুল আলম বউয়ের বোনের বাসায় তুলে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখে। আমরা পুরো দিন বাবাকে খুঁজে পাইনি। আজকে রাত ১২টার দিকে আমার বাবাকে বেহুঁশ অবস্থায় পাই তখন সবার সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আমার ভাইয়েরা সামান্য জমির লোভে বাবাকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

নিহতের স্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার বাপের ভাগের জমি পাই। এ জমি বিক্রি করার জন্য কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছি। এ দুই ছেলে আমাকে দুয়েকবার জবাই করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দুজন আমার জমি রেজিস্ট্রি দেওয়ার জন্য তাদের বাবাকে তুলে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখে।’

স্থানীয় ইউপি আবুল ফয়েজ বলেন, কালা মিয়ার ছেলেরা মায়ের জমির ভাগ নিতে বাড়িতে এসে বাবার সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে যেত। এর আগে কালা মিয়ার বড় মেয়ে আমাকে এ বিষয়ে জানিয়েছিল। আমি ছেলেকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি। এরপরও গত দুই দিন ধরে তারা বাবাকে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখে সম্পত্তির জন্য। আজকে শুনছি বাবাকে বেহুঁশ অবস্থায় পেয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাবাকে দুই ছেলে মিলে খুন করে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।এমন নৃসংস ঘটনা টেকনাফে এর আগে কখনও হয়নি বলে জানান সচেতন মহল।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102