ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শেষ মুহূর্তে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ঈদের বাজার জমে উঠেছে। নামিদামি শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাত—সবখানেই বেচাকেনার ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন বিপণিবিতানগুলোতে। দেখে মনে হচ্ছে, মার্কেটজুড়েই লেগেছে ঈদের আমেজ।
পবিত্র মাহে রমজানের ১৮তম রোজা চলছে। ঈদের এখনো ১২ দিন বাকি থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই চাকরিজীবীরা ছুটবেন গ্রামের বাড়িতে। তাই বাড়ি যাওয়ার আগে অনেকেই শেষ করতে চাইছেন ঈদের কেনাকাটা।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপচাঁচিয়ার নিউমার্কেট, জোবেদা সিটি মল, চেয়ারম্যান সুপারমার্কেট, ওবায়দুল মার্কেট, সুরজ আলী শপিং মল, সেন্ট্রাল প্লাজা, শপিং কমপ্লেক্স, আমজাদ মার্কেট ও লাকি প্লাজাসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন অভিজাত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকেই মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে কেনাকাটার ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা ডিজাইনের ঈদের পোশাকের সমাহার রয়েছে দোকানগুলোতে। জনপ্রিয় শপিংমলগুলোতে নানা ধরনের অফার ও ঈদ স্পেশাল কালেকশনও বিক্রি হচ্ছে।
পোশাকের দোকানগুলোতে পুরুষদের পাজামা-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, গেঞ্জি ও টি-শার্ট, নারীদের শাড়ি ও থ্রিপিস এবং শিশুদের জন্য পাজামা-পাঞ্জাবি, ফ্রক ও বিভিন্ন সেট পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি কসমেটিকস, জুতা, ঘর সাজানোর সামগ্রী ও গহনার দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সিও অফিসের চেয়ারম্যান মার্কেটের সাহা বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী অলোক সাহা জানান, এ বছর ঈদের বেচাকেনা শিশুদের পোশাক দিয়ে আগেভাগেই শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের নতুন পোশাক বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক হারে।
এ ছাড়া মুসলিন, সিল্ক, জামদানি, কাতান, কাশ্মীরি কাজ করা শাড়ি ও লেহেঙ্গা, পুরুষদের পাজামা-পাঞ্জাবি ও টি-শার্ট এবং শিশুদের জন্য নানা রঙের আরামদায়ক পোশাকের চাহিদা বেশি। গরমের কথা মাথায় রেখে অনেক ক্রেতা সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
ক্রেতা মোখলেসুর রহমান বলেন, বরাবরের মতো ঈদ সামনে রেখে কাপড়ের দাম কিছুটা বাড়তি রাখা হচ্ছে। স্কুল-কলেজ রোজার শুরু থেকেই বন্ধ থাকায় অনেকে আগেভাগে কেনাকাটা করে গ্রামের বাড়িতে চলে যাবেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে অনেক বিক্রেতা দাম কমাতে চাইছেন না।
নিউমার্কেটের মা বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী মো. হাকিম শেখ বলেন, এবার মানুষের মধ্যে ছিনতাইয়ের কিছুটা আতঙ্ক রয়েছে। এ জন্য অনেকে দিনের বেলাতেই কেনাকাটায় ঝুঁকছেন। ব্যবসায়ী ও দোকানিরাও কিছুটা আতঙ্কে রয়েছেন। তাই আগের তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে এবারের ঈদ কেনাকাটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, কেনাকাটা করতে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সতর্ক রয়েছি।
পুরো এলাকায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে অবজারভেশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। মোবাইল ও টাকা চুরিসহ ছোটখাটো অপরাধ প্রতিরোধে সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।