সদ্য গঠিত হয়েছে বিএনপির নতুন সরকার। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এরই মধ্যে কেটে গেছে ১৫ দিন। সরকার গঠনের পর থেকে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও এবার রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার পদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বর্তমানে এ দুই পদই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ পদ দুটিতে কে আসছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে চলছে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা।
বরাবরই রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বসানো হয়। বিএনপির ভেতরেও এমন আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে দলটি কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও প্রবীণ আইনজীবীর নাম বিবেচনায় এনেছে।
নতুন সরকারের রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও দলীয়ভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় এবং মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে তার জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তাকে নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিএনপিতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো তিন-চারজন নেতা আছেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা কেন?’
তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি।
রাষ্ট্রপতি পদের পাশাপাশি স্পিকার পদ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক এবং বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আলোচনায় আসা এ দুজনেরই সংসদীয় কার্যপ্রণালি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ওসমান ফারুক—দুজনের নামই সামনে আসছে।
এদিকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইন পেশায় দীর্ঘ সম্পৃক্ততা এবং সংবিধান ও সংসদীয় বিধিবিধান সম্পর্কে দক্ষতার কারণে তিনিও আলোচনায় রয়েছেন।
স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপিতে স্পিকার হওয়ার মতো যোগ্য বেশ কয়েকজন নেতা আছেন, যেমন—খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান ও জয়নুল আবেদীন।’
উল্লেখ্য, আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। ওই অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে।