কক্সবাজারে বহুল আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ ও সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা রেজোয়ানুল হক হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. জাহিদ হোসেন ওরফে লালুকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরসার কমান্ডার হিসেবে পরিচিত জাহিদ হোসেন ওরফে লালুকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ (ওয়েস্ট) এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি ফাইভ স্টার পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার লালু দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাসহ সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা রেজোয়ানুল হক হত্যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি হিসেবে তদন্ত সংস্থার তালিকাভুক্ত ছিলেন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্র আরও জানায়, আরসা নেতা জাহিদ হোসেন ওরফে লালু দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সাবেক আরসা প্রধান আতাউল্লাহ জুনুনির নেতৃত্বে ক্যাম্প এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ছাড়াও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনায় তিনি পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছিলেন বলেও গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আলোচিত দুটি হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে এবং ক্যাম্প এলাকায় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতে রিমান্ড চাওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সন্ত্রাস, অস্ত্র ও অপরাধমূলক তৎপরতা দমনে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।