মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার পারদ নামছে না কিছুতেই। যেকোনো সময় ইরানি ভূখণ্ডে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এমন দাবি ইসরায়েলের। আর সে কারণেই ইসরায়েলি বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানে হামলা চালালে ইরান পাল্টা আঘাত হিসেবে ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, এমন শঙ্কা থেকেই এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম কানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় দেশটি গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নর্দান কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলো এক সাক্ষাৎকারে জানান, যেকোনো মার্কিন হামলার জবাবে তেহরান ইসরায়েলে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন করা হলেও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনও কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং তিনটি ডেস্ট্রয়ার বর্তমানে ওমান উপসাগরের পথে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যের দিকে একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর অগ্রসর হচ্ছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।
মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সামরিক পদক্ষেপসহ সব ধরনের বিকল্পই তাদের টেবিলে রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যেকোনো মার্কিন হামলার ‘দ্রুত ও ব্যাপক’ জবাব দেওয়া হবে।