রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

যে পদ্ধতিতে গণনা ও সংরক্ষণ করা হবে পোস্টাল ব্যালট

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রবাসী ভোটারদের পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপার দেশে আসতে শুরু করেছে। এসব ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য সর্বোচ্চ ৪০০টি পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি করে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হচ্ছে।

এবার দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে ৩০০ আসনে প্রায় ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোটিংয়ের জন্য নিবন্ধন করেছেন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাবে, কেবল সেগুলোই গণনার আওতায় আসবে। নির্ধারিত সময়ের পরে প্রাপ্ত ব্যালট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হিসেবে বিবেচিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের জারি করা এক বিশেষ পরিপত্রে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত এই নির্দেশনাগুলো জানানো হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী প্রার্থীদের প্রতিনিধি ও নির্বাচনি এজেন্টদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালট রাখার জন্য নির্ধারিত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সগুলো তালাবদ্ধ করেন এবং সংরক্ষণের জন্য আলাদা কক্ষ নির্ধারণ করেন।

পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, এবার প্রবাসী ভোটারদের জন্য ওসিভি এবং দেশে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য আইসিপিভি পদ্ধতিতে পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের সামনেই ব্যালট বাক্স লক করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের কক্ষগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব ব্যালট আসবে সেগুলো নির্ধারিত বাক্সে রাখা হবে। এরপর যে ব্যালটগুলো আসবে, সেগুলো আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ইসির পরিপত্র অনুযায়ী, প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে (ওসিভি) কেবল দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক থাকবে, প্রার্থীর নাম উল্লেখ থাকবে না। অন্যদিকে দেশে অবস্থানরত ভোটারদের (আইসিপিভি) ব্যালটে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক দুটোই থাকবে।

পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাপনার জন্য তৈরি সফটওয়্যারে রিটার্নিং কর্মকর্তা লগইন করলে সংশ্লিষ্ট আসনে নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা এবং ইতোমধ্যে প্রাপ্ত ভোটের সার্বিক চিত্র দেখা যাবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যালট বাক্স লক করার নিয়ম

প্রতীক বরাদ্দের দিন অথবা তার পরদিন থেকেই পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ব্যালট বাক্স লক করার আগে প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনি এজেন্টদের উপস্থিত থাকার জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময় উল্লেখ করে লিখিতভাবে জানাতে হবে। নির্ধারিত দিনে উপস্থিত সবার সামনে প্রতিটি ব্যালট বাক্সে চারটি করে সিল বা তালা লাগানো হবে। সিল লাগানোর আগে বাক্স ও তালার নম্বর উচ্চৈস্বরে ঘোষণা করা হবে এবং প্রার্থী বা এজেন্টদের তা নোট করে রাখতে বলা হবে। কোনো বাক্স পূর্ণ হয়ে গেলে সেটি অতিরিক্ত একটি সিল দিয়ে বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে রাখা হবে।

ডাকযোগে প্রাপ্ত ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণ

ডাক বিভাগের মাধ্যমে আসা পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তাকে সহায়তার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবলও থাকবে। ডাকযোগে প্রাপ্ত প্রতিটি খামের ওপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে তা আসনভিত্তিক নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে সংরক্ষণ করা হবে। স্ক্যানের মাধ্যমে সফটওয়্যার থেকে ফরম-১২ অনুযায়ী ব্যালট প্রেরণ ও প্রাপ্তির তালিকা তৈরি হবে, যা প্রতিদিন সংরক্ষণ করতে হবে।

স্ক্যানিংয়ের সময় কোনো কিউআর কোড ডুপ্লিকেট হিসেবে শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হবে। সে ক্ষেত্রে খামটি না খুলেই আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হবে। কিউআর কোড স্ক্যানের জন্য প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি নির্বাচন কমিশন সরবরাহ করবে।

ভোটার কিউআর কোড স্ক্যান না করলে কী হবে

ভোটারদের জন্য পাঠানো নির্দেশিকা অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার পর ভোটারকে নির্ধারিত মোবাইল অ্যাপে লগইন করে খামের কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যালট সিস্টেমে নিবন্ধিত হবে। কেউ যদি কিউআর কোড স্ক্যান না করেই ভোট দিয়ে ব্যালট ফেরত পাঠান, তাহলে সেটি সিস্টেমে শনাক্ত হবে না এবং ব্যালটটি বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। এসব খামও না খুলে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হবে।

পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রস্তুতি

পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় বা সুবিধাজনক অন্য কোনো স্থানে আসনভিত্তিক গণনা কক্ষ প্রস্তুত করা হবে। ভোটগ্রহণের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার পর সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা নিজ নিজ আসনের পোস্টাল ব্যালটভর্তি বাক্স রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে গ্রহণ করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট ফেরত পাঠাতে ভোটারদের আগেই অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

যেসব কারণে পোস্টাল ব্যালট বাতিল হবে

বৈধ ব্যালট আলাদা করার পর সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—এই দুই ভাগে গণনা করা হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট বাতিল বলে বিবেচিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে—খামের ভেতরে ঘোষণাপত্র না থাকা বা ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, একাধিক প্রতীকে টিক বা ক্রস দেওয়া, কোনো প্রতীকেই চিহ্ন না দেওয়া, এমনভাবে চিহ্ন দেওয়া যাতে ভোট কোন প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট না হওয়া, ওসিভি ব্যালটে নির্ধারিত প্রতীক ছাড়া অন্য প্রতীকে চিহ্ন দেওয়া এবং ব্যালট পেপারের নির্ধারিত স্থানের বাইরে চিহ্ন প্রদান।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102