সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে ২০ জেলেকে ডন বাহিনী পরিচয়ে একদল জলদস্যু অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জেলে-বাওয়ালি ও তাদের স্বজনদের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
অপহৃত জেলেদের স্বজনরা জানায়, ৮-৯ দিন আগে কদমতলা স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন জেলেরা, বৃহস্পতিবার রাতে দোবেঁকী কোস্টগার্ড অফিসের সংলগ্ন এলাকা ও বিভিন্ন খালে ২০টি নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে তুলে নেয় ৮ সদস্যের দস্যুদলটি। এরপর একটি মুঠোফোন নম্বর দিয়ে অপহৃত জেলেদের স্বজনদের কাছে প্রতিজনের জন্য ৪০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।
তাদের স্বজনদের বলা হয়, পুলিশ বা কোস্টগার্ডকে জানালে অপহৃতদের মেরে ফেলা হবে। এ কারণে স্বজনেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে আপসের মাধ্যমে মুক্তিপণ কমিয়ে জেলেদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
অপহরণের শিকার জেলেদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- সাদেক আক্কাছ, আবু তাহের, রাজেত আলী, নজরুল গাইন, শুকুর আলী, আবুল কালাম, আশিকুল, হাফিজুর, আসাদুল, আমজাদ আলী, ইউসুফ আলী ও মিলন হোসেন। তারা শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। বাকি আটজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, দস্যু দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভেটো সফিকুল ও শাহাজান। তারা ইতোপূর্বে র্যাবের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও গত তিন মাস ধরে পুনরায় ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে দস্যুতা শুরু করেছেন।
হরিনগর গ্রামের মহাজন আকরাম হোসেন অভিযোগ করেন, গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে সাতক্ষীরা রেঞ্জে জলদস্যু তৎপরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেদের পরিবার এখন আতঙ্কে আছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, তার স্টেশন থেকে পাস নিয়ে বনে যাওয়া কিছু জেলে দস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার খবর ফিরে আসা জেলেদের মাধ্যমে জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিযেছি।
শ্যামনগর থানার ওসি মো. খালেদুর রহমান বলেন, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বিষয়টি তাকে কেউ জানায়নি। তবে তিনি এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছেন।