ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) লাতিন আমেরিকায় সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানায়, ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজের যাতায়াতে মার্কিন অবরোধের অংশ হিসেবে সাগিত্যা জাহাজকে জব্দ করেছে তারা।
বিবৃতিতে সাউথকম জানায়, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া জাহাজটি জব্দ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাউথকমের শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাগিত্যা জাহাজের ওপরে মার্কিন বাহিনী উড়ছে। পরে জাহাজটির ডেকে নেমে আসেন সাউথকম সদস্যরা।
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে এটি জব্দ করা সপ্তম এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় আটকের পর পঞ্চম ট্যাঙ্কার।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরে মার্কিন কোস্টগার্ড ‘ভেরোনিকা’ নামক এক জাহাজ আটক করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘কোয়ারেন্টাইন’ বা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় জাহাজটিকে জব্দ করা হয় বলে জানায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম ।
এদিকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, তার সরকার ইতোমধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার তেল বিক্রি করে আয় করেছে। দেশটির তেল খাতে বড় ধরনের আইনি সংস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
রদ্রিগেজ আশা প্রকাশ করেন, এই সংস্কারের ফলে নতুন তেলক্ষেত্রে বিনিয়োগ আসবে এবং এর মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জনসেবা ও শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল মজুতকারী দেশ হলেও বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে তাদের উৎপাদন বিশ্ববাজারের মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ এখন ওয়াশিংটনের হাতে। এ সময় ভেনেজুয়েলা থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সংগ্রহের কথাও জানান তিনি।