রাজশাহী জেলা ও মহানগরী মিলিয়ে দৈনিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার। অথচ সরবরাহের তুলনায় অনেক কম। দোকান-দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। গত তিন সপ্তাহ ধরে রাজশাহীতে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ চাহিদার মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এই সংকট এখনও সমাধান হয়নি।
সিলিন্ডারের এই ঘাটতি থাকায় মানুষকে দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। অনেকের রান্নাঘরের গ্যাস শেষ, কিন্তু দোকানে গিয়ে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি অসহনীয়। এখন গ্যাসের বিকল্প হিসেবে খড়ি বা কাঠ ব্যবহার করাও সম্ভব নয়।
রাজশাহী মহানগরীতে পাইপ লাইনে মাত্র ৯ হাজার ১৫৭টি সংযোগ রয়েছে। বাকিরা এলপিজি সিলিন্ডারে রান্না করেন। খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট তৈরি হয়েছে। দাম বাড়ানোর অজুহাতে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
লক্ষ্মীপুর বাজারের খুচরা বিক্রেতা সাইফুল হক বলেন, ‘ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ পর্যন্ত আমরা ১২.৫ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ১,২৫৩ টাকায় বিক্রি করেছি। জানুয়ারি থেকে দাম বাড়িয়ে ১,৩০৬ টাকা করা হয়েছে। এরপর থেকে সরবরাহ আরও কমে গেছে। গ্রাহকদের আমরা কিভাবে সিলিন্ডার দেব, সেটা আমাদের জন্যও প্রশ্ন।’
রাজশাহী মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গৃহস্থালি থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ পর্যন্ত রান্নার এলপিজির জন্য হাহাকার চলছে। সরবরাহ কম থাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না এবং কেউ কেউ দ্বিগুণ দামে কিনছেন।
বনগ্রাম এলাকার সোহেল রানা জানান, ৩ জানুয়ারি তার রান্নার সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যায়। তিনটি দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাননি। ৫ জানুয়ারি শেষ পর্যন্ত একটি সিলিন্ডার ২,৩৫০ টাকায় ম্যানেজ করেছেন।
সাহেববাজারের হোটেল মালিক শাকিল হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনের জ্বালানি খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি চললে হোটেল বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। আশপাশের কিছু রেস্তোরাঁও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে।’
নগরীর খুচরা বিক্রেতারা সরবরাহের অনিয়মকেই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন। নওদাপাড়া বাজারের বিক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ অনিয়মিত। চাহিদার তুলনায় অনেক কম সিলিন্ডার পাচ্ছি। ক্রেতারা ভাবেন আমরা মজুত করছি, কিন্তু আমাদের কাছে মজুত নেই।’
গ্রেটার রোডের বড় এজেন্সি হালিমার ব্যবস্থাপক পারভেজ হোসেন জানান, ‘আগে প্রতিদিন সিলিন্ডার সরবরাহ হতো। এখন সপ্তাহে এক-দুই দিন এবং পরিমাণও কম।’
ওমেরা কোম্পানির পরিবেশক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘যেখানে আগে প্রতিদিন সরবরাহ হতো, এখন সপ্তাহে মাত্র দুই দিন। কেউ চাইলে দিতে পারছি না। মানুষ মনে করছে আমরা দায়ী, কিন্তু কোম্পানি সরবরাহ না করলে আমরা কী করতে পারি।’
রাজশাহী এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন কচি জানান, ‘দৈনিক চাহিদা ৩৫-৪০ হাজার, আমরা পাচ্ছি মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ। আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দিই না, তবে খুচরা বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম নিতে পারেন।’
রাজশাহীতে ১৮টি কোম্পানি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে শুধু এমবি, সান, যমুনা ও আই গ্যাস কোম্পানির সিলিন্ডার আসছে, সেটিও সীমিত। সংকট কবে কাটবে, তা কেউ বলতে পারছে না।