নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসভা করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান রুমিন ফারহানা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে রুমিন ফারহানা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি শেষবারের মতো আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি। আমি এ ধরনের কথা আর শুনতে চাই না। আপনি পারলে থামিয়ে দেন। আজ আমি ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলছি, পরে সেটা করব না।’
এ সময় তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলে, ‘আপনাদের এটা দেখায়, খোঁজ নিয়ে দেখেন। আমি রুমিন না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না, স্যার। মাথায় রাখবেন। যাদের কথায় এখন আপনারা চলছেন, শেখ হাসিনার সময় তারা কানে ধরে খাটের নিচে থাকত। আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না।’
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, নির্বাচন বিধিমালার ১৮ ধারা লঙ্ঘন করে তারা সমাবেশের আয়োজন করেন। বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় সেখানে গিয়ে সমাবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারা চলে যাওয়ার সময় সমাবেশের আয়োজক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সমাবেশ করতে না পেরে চলে যাওয়ার সময় ওই প্রার্থী তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেছেন।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবুবকর সরকার জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি ২০২৫-এর ১৮ ধারায় জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি আশা করেন নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।