পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে হাঁস-মুরগির ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের কাঁচির কোপে দুলাল মল্লিক (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
নিহত দুলাল মল্লিক উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের মকুমা গ্রামের মৃত আক্কাস মল্লিকের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে একই গ্রামের বাসিন্দা মহারাজ খানের হাঁস-মুরগি প্রতিবেশী দুলাল মল্লিকের জমিতে ঢুকে পাকা ধান নষ্ট করছিল। এ ঘটনায় দুলাল মল্লিক মহারাজ খানের পরিবারের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মহারাজ খান, তার স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৮) ও মেয়ে সাদিয়া আক্তার (২২) একত্রিত হয়ে দুলাল মল্লিকের ওপর হামলা চালান।
নিহতের ছেলে মো. শাওন মল্লিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাদিয়া আক্তার কাঁচি দিয়ে দুলাল মল্লিকের মাথার তালুতে সজোরে কোপ দেন। এতে তার বাবা সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় দুলাল মল্লিককে উদ্ধার করে প্রথমে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে একে নজিরবিহীন ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস ছালাম জানান, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা যাতে না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও মামলা গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’