বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত ডিসেম্বর মাসে দেশের সীমান্ত ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫৫ কোটি ৫৯ লাখ ১১ হাজার টাকার চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে। বিজিবি সদরদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
জব্দকৃত পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে: স্বর্ণ, শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট-পিস, চাদর, কম্বল, তৈরি পোশাক, থানকাপড়, কসমেটিক্স, ইমিটেশন গহনা ও আতশবাজি। এ ছাড়া কাঠ, চা পাতা, সুপারি, কয়লা, পাথর ও বালুসহ মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, চকোলেট, জিরা, চিনি, পিয়াজ, রসুন, বিভিন্ন প্রকার বীজ, সার, কীটনাশক ও ডিজেলও উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানকালে গবাদি পশু, কষ্টি পাথরের মূর্তি, ট্রাক, পিকআপ, ট্রাক্টর, প্রাইভেটকার, নৌকা, মোটরসাইকেল এবং সিএনজি/ইজিবাইকও জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দেশীয় ও বিদেশি পিস্তল, রাইফেল, হ্যান্ড গ্রেনেড, গোলাবারুদ, মর্টার সেল, গান পাউডার এবং অন্যান্য সামরিক সামগ্রী। এ ছাড়াও বিজিবি বিপুল পরিমাণ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য জব্দ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে: ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ, বিদেশি ও দেশীয় মদ, ক্যান বিয়ার, গাঁজা, বিড়ি ও সিগারেট, সিরাপ, ট্যাবলেট ও বিভিন্ন প্রকার ওষুধ।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭১ জন চোরাচালানীকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩৪ জন বাংলাদেশি, ১৫ জন ভারতীয় এবং ২৭৬ জন মিয়ানমার নাগরিক। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকপাচার প্রতিরোধে তাদের অভিযান চলমান থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধ রুখতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।