সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর জেলায় উৎপাদিত কুল ১৫০ থেকে ১৬০ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গুণগত মান ভালো হওয়ায় উৎপাদিত কুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে কুল চাষের পরিধিও দ্রুত বাড়ছে।
সাতক্ষীরার কৃষি অফিস জানিয়েছে, সাতক্ষীরায় চলতি মৌসুমে ৮৪৬ হেক্টর জমিতে কুল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর জেলায় উৎপাদিত কুল ১৫০ থেকে ১৬০ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলার সাতটি উপজেলাতেই কুল চাষ হচ্ছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে কলারোয়া উপজেলায় ৪৭২ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া তালা উপজেলায় ১৬৫ হেক্টর, সাতক্ষীরা সদরে ১১২ হেক্টর, কালীগঞ্জে ৪৮ হেক্টর, শ্যামনগরে ২৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ২০ হেক্টর এবং দেবহাটায় ৪ হেক্টর জমিতে কুলের বাগান গড়ে উঠেছে।
সাতক্ষীরার কুল এখন সারা দেশেই পরিচিত, বিশেষ করে কলারোয়া, পাটকেলঘাটার কুল আলাদা সুনাম অর্জন করেছে।
এ ছাড়া এলাকায় নারিকেল কুল, টক কুল, থাই আপেল কুল, বল সুন্দরী, নাইকেলসহ বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কুলের দাম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছে। নাইকেল ও কুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, যা স্থানীয় বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ঢাকায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘায় গড়ে প্রায় ১০০ মণ কুল উৎপাদন হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।
কুল সংগ্রহের মৌসুমে প্রতিদিন সকাল থেকে শ্রমিকরা বাগানে কাজ করেন। সংগ্রহ করা কুল বাছাই করে কার্টনে ভরে খুলনা, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।
তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকার কুলচাষি আব্দুস সমাদ মোড়ল জানান, তিনি সাত বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের কুলের আবাদ করেছেন। বছরে তার ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকার কুল বিক্রি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকির মধ্যেও সাতক্ষীরার কৃষকরা কুল চাষের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছেন। এই কুল চাষ শুধু কৃষকদের আয় বাড়াচ্ছে না; বরং জলবায়ু অভিযোজনের একটি সফল উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জানান, স্বল্প সময়ের খুবই লাভজনক হওয়ায় কুল চাষের দ্রুত প্রসার ঘটছে। চাষিরা খুবই আগ্রহী হচ্ছেন কুল চাষে। তা ছাড়া জেলার অনেক মৎস্য ঘেরে কুল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মৎস্যচাষিরা। বর্তমানে অনেক উন্নতজাতের সুস্বাদু কুল চাষ হচ্ছে এ জেলায়। কুল চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে সাতক্ষীরার কুলচাষিদের জন্য।
এদিকে, চাষিদের অভাবনীয় এই সাফল্য ধরে রাখতে এবং কুল চাষ আরও সম্প্রসারণে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল।