বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট-পিসিএ) নিয়ে চলমান আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইইউ। ঢাকায় সফররত ইইউর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের সার্বিক দিক পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (পিসিএ), আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
পাওলা পাম্পালোনি বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে বিদ্যমান সাধারণ অংশীদারিত্ব কাঠামোর পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে নতুন সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে অধ্যাপক ইউনূসের গৃহীত ব্যাপক সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এসব পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কারের যে দৃঢ় অঙ্গীকার ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখা গেছে, তা ইইউ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পিসিএ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ সময় গত ১৭ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকে ইইউর ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পিসিএ বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইইউ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে পাওলা পাম্পালোনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাবে। মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশে এসে রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইইউ প্রতিনিধি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, একটি সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস