রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে এক ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি আজমীর আলম (৫০)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকছেদপুর উপজেলার সোর্দি মাতুব্বর পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির হাজরা বাড়িওয়ালীর ভাড়াটিয়া যৌনকর্মী জুলির কক্ষ থেকে আজমীর আলমের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকার মিরপুর এলাকায় গার্মেন্টস জুট কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত তিনি ওই কক্ষে উঠেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিগারেট আনতে জুলিকে বাইরে পাঠান। প্রায় আধঘণ্টা পর ফিরে এসে জুলি তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ এসআই সেলিম মোল্লার নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। স্থানীয়দের ধারণা, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তার মৃত্যু হতে পারে।
তবে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন ও উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে যৌন উত্তেজক ওষুধের অবাধ বিক্রি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পল্লির প্রায় সব দোকানেই এসব ওষুধ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা কার্যত একটি অভয়ারণ্যতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে তারা মনে করছেন।