ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলায় ২৮ বছর বয়সি এক তরুণীকে চলন্ত গাড়িতে দুই ঘণ্টা ধরে ধর্ষণের পর চলন্ত গাড়ি থেকেই রাস্তায় ফেলে গেছে ধর্ষকরা। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত ৩টার দিকে শহরের এসজিএম নগরের রাজা চত্বরে চলন্ত গাড়ি থেকে ওই তরুণীকে ফেলে দেয় ধর্ষকরা। এতে ওই তরুণী মুখে প্রচণ্ড আঘাত পান।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ওই তরুণীর আঘাতপ্রাপ্ত মুখে ১০ থেকে ১২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও এখনো ভয় ও শঙ্কায় আছেন তিনি। পুলিশ এখনো তার বিবৃতি রেকর্ড করতে পারেনি।
এনডিটিভি বলছে, সোমবার রাতে বাসায় ফেরার জন্য গাড়ি খুঁজছিলেন ওই তরুণী। এমন সময়ে দুই যুবক তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাড়িতে তোলেন। এরপর দুই-আড়াই ঘণ্টা ধরে গাড়িতেই ওই নারীকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগপত্রে জানিয়েছে তার পরিবার। ওই তরুণীর প্রতিরোধ-অনুরোধ সত্ত্বেও অভিযুক্তরা থামেননি, উল্টো ওই তরুণীকে হত্যার হুমকি দেন।
ধর্ষণের শিকার তরুণীর বোন অভিযোগপত্রে বলেছেন, ঘটনার আগে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ফোন করেছিলেন ওই তরুণী। মা’র সঙ্গে বাদানুবাদের পর ঘর থেকে বেরিয়ে এক বন্ধুর বাড়িতে যাচ্ছেন জানিয়ে বোনকে ওই তরুণী বলেছিলেন, ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে বাসায় ফিরবেন তিনি।
ধর্ষণের শিকার তরুণী তার বোনকে অনেকবার কল করেছিলেন, বোন ফিরতি কল করার পর ঘটনার কথা জানতে পারেন। তিনি ও পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ধর্ষণের শিকার তরুণী বিবাহিত এবং তিন সন্তান আছে তার। পারিবারিক বিরোধের কারণে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করেন না তিনি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। ধর্ষণে ব্যবহৃত গাড়িটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।