স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর কুইন এলিজাবেথ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চরম অবহেলার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক ভুলের কারণে এক ব্যক্তির মরদেহ অন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ভুলবশত তা দাহ করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, গত মাসে মরদেহ শনাক্তকরণ ও হস্তান্তরের সময়ে এ ঘটনা ঘটে। নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ সঠিকভাবে লেবেলিং ও যাচাই করার কথা থাকলেও তা পালন করা হয়নি। ফলে একটি মরদেহ ভুল করে অন্য একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংস্থার (আন্ডারটেকার) কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি তখন জানাজানি হয়, যখন ওই মরদেহটির শেষকৃত্য সম্পন্ন করে তা দাহ করা হয়ে গেছে।
এই ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে দুটি পরিবারকে। এক পরিবার তাদের স্বজনের মরদেহের পরিবর্তে অন্য কারো মরদেহ দাহ করেছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় পরিবারটি সময়মতো তাদের স্বজনের মরদেহ না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারেনি।
হাসপাতাল পরিচালনাকারী সংস্থা এনএইচএস গ্রেটার গ্লাসগো অ্যান্ড ক্লাইড এই ঘটনার পূর্ণ দায় স্বীকার করেছেন। সংস্থার মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. স্কট ডেভিডসন দুই পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছেন।তিনি বলেন, মরদেহ গ্রহণ থেকে শুরু করে হস্তান্তর পর্যন্ত আমাদের অত্যন্ত কঠোর নিয়ম রয়েছে। দুঃখজনকভাবে এই ক্ষেত্রে সেই প্রোটোকল মানা হয়নি। এই কঠিন সময়ে পরিবার দুটির ওপর দিয়ে যে মানসিক ধকল যাচ্ছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
গ্লাসগোর এই বিশালাকার হাসপাতালটি আগে থেকেই নানা বিতর্কে জর্জরিত। ২০১৫ সালে চালুর মাত্র তিন বছরের মাথায় সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়। হাসপাতালের পানি ও বায়ু চলাচল (ভেন্টিলেশন) ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে একটি পাবলিক ইনকোয়ারি বা জনসমক্ষে তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সম্প্রতি হাসপাতালটির সাবেক প্রধান জেন গ্রান্টের বিরুদ্ধেও তথ্য গোপন এবং রোগীদের পরিবারের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান