বড়দিনের আগের রাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মৃত্যু কামনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, রাশিয়া যতই দুর্ভোগ চাপিয়ে দিক না কেন, আমাদের বিশ্বাস ও ঐক্য চিড় ধরাতে পারবে না। খবরটি জানিয়েছে এনডিটিভি।
ভিডিওতে পুতিনের নাম সরাসরি না উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমার সবার একটাই স্বপ্ন, আর তা হলো সে যেন ধ্বংস হয়।’ এরপর তিনি ইউক্রেনে শান্তির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। আমরা শান্তির জন্য লড়াই করছি, প্রার্থনা করছি এবং এটা আমাদের প্রাপ্য।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রায় চার বছর ধরে চললেও এখনো তা বন্ধ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে তাতে সামান্য অগ্রগতি ঘটেছে। উভয় দেশই এখনো একে অপরের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে অন্তত তিন জন নিহত হন।
জেলেনস্কি ভিডিও বার্তায় বলেন, বড়দিনের প্রাক্কালে রাশিয়ানরা আবারও তাদের আসল রূপ দেখিয়েছে। গোলাবর্ষণ, শত শত শাহেদ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সবকিছু চলছে।একই সময়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে যুদ্ধ অবসানে প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলের শিল্প এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে মস্কোও যদি একইভাবে সেনা সরায় এবং ওই এলাকা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল হিসেবে পরিণত হয়, তবেই এটি সম্ভব হবে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, রুশ নিয়ন্ত্রণাধীন জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকা নিয়েও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো শান্তি পরিকল্পনা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে।
অন্যদিকে, রাশিয়া এখনো দখল করা ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো আগ্রহ দেখায়নি। বর্তমানে রাশিয়া লুহানস্কের অধিকাংশ এলাকা এবং দোনেৎস্কের প্রায় ৭০ শতাংশ দখল করে রেখেছে। পুতিন এই অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার জন্য জেলেনস্কির ওপর চাপ দিলেও ইউক্রেন সেই আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেছে।