অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের যাত্রায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সম্প্রতি নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়ার জোর আলোচনা চলছে। তার জায়গায় বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের আসার গুঞ্জন চলছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদে রদবদল হতে পারে বলে সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পরিবর্তে বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে নতুন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। তবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরীকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।সূত্রের দাবি, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দাবির মুখেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের তিন দিন পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। প্রথমে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন। তবে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্রশ্নে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে কিছুদিনের মধ্যেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এই দায়িত্ব পান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তাকে নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক না থাকলেও সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার বিষয়ে একটি প্রশ্ন করলে তিনি আলু-পেঁয়াজের দাম নিয়ে কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর পর থেকেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি ওঠে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা উপদেষ্টার পদটি বরাবরই খুবই স্পর্শকাতর। আওয়ামী লীগের টানা চার মেয়াদের বেশির ভাগ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি কথা কম বলতেন এবং খুব সতর্কতার সঙ্গে বেফাঁস মন্তব্য থেকে বিরত থাকতেন। এরপরও নানা সময় তাকে নিয়েও হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।