আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-কে সামনে রেখে নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন ও রাজনৈতিক, প্রেস ও তথ্য বিভাগের প্রধান মিসেস বাইবা জারিন। এ ছাড়া বিমান বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে।সাক্ষাৎকালে মহাপরিচালক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। তিনি বাহিনীর প্রশিক্ষিত জনবল, বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সমন্বিত পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। এ বিষয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আলোচনায় বাহিনীর সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশাদারিত্ব উন্নয়ন এবং কল্যাণ নিশ্চিতকরণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, আধুনিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ কাঠামো, টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বাহিনীর প্রান্তিক সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গৃহীত ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’।
বাহিনীপ্রধান জানান, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বাহিনী ব্যাপক প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে প্রশিক্ষিত সদস্যদের জন্য দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়।
এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নয়নমুখী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি ভবিষ্যতে বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।